তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বললেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। পেন্টাগন সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানকে চাপে রাখতেই এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের কথা ভাবা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমার বদলে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল সৈন্য বহর পাঠানোর মূল লক্ষ্য হলো তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করা। অতিরিক্ত এই বিশাল বাহিনীকে ঠিক কোথায় বা কোন দেশে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
একাধিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, সংবাদমাধ্যম যাই বলুক না কেন, আলোচনা বেশ ভালোভাবে এগোচ্ছে।
এর আগে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা স্থগিতের মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তেহরানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ আগামী ৬ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ট্রাম্পের দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমানে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। ফক্স নিউজের দ্য ফাইভ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সাত দিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাদের ১০ দিন সময় দিয়েছি।
এই নমনীয়তার কারণ হিসেবে তিনি ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া একটি উপহারের কথাও উল্লেখ করেন। হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার নিদর্শন হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা জাহাজকে নির্বিঘ্নে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেয় নাকি সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন বিশেষ দূত রবার্ট ম্যালি।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের অর্থ এই নয় যে ট্রাম্প স্থল অভিযানের নির্দেশ দেবেন না। কোনো বড় চুক্তির চেয়ে বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, স্থগিতাদেশটি সোমবার, ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগে তিনি পাঁচ দিনের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন, যা চলতি সপ্তাহেই শেষ হওয়ার কথা ছিল।
অপরদিকে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে।
এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারে স্থির হলেও, ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের এক ঘণ্টার মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় এক ডলার কমে যায়।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। নিউ ইয়র্কের ব্যবসায়িক প্রতিবেদক নাটালি শেরম্যান জানিয়েছেন, সরবরাহের অনিশ্চয়তা থাকলেও চাহিদার পূর্বাভাসে কিছুটা পরিবর্তনের কারণেই এই সামান্য পতন বলে মনে করছেন তারা।
ইরান যুদ্ধের মধ্যে নিজ দেশের জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা আরও হারিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই কঠিন সময় পার করছেন তিনি।
যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বেড়ে বর্তমানে প্রতি গ্যালন গড়ে চার ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমূল্য সরাসরি আঘাত হেনেছে প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তায়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তার হার বর্তমানে মাত্র ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে আলোচনা বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের কথা বললেও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান-ইসরায়েল। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে শুক্রবার ব্যাপক হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ। এছাড়া লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি শহরেও হামলা হয়েছে। তথ্যসূত্র- বিবিসি বাংলা
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


