আবির হোসেন সজল : আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় প্রায় ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন লালমনিরহাট-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

এছাড়া হলফনামায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা থাকার তথ্য রয়েছে। যার ২১টি মামলা খালাস ও ৩টি মামলা স্থগিত রয়েছে।
হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস কৃষি এবং তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আসাদুল হাবিব দুলু ২০০১ সালের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে যোগাযোগ উপমন্ত্রী এবং পরে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এক সময়ের কলেজ অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বর্তমানে তার পেশা হিসেবে ‘কৃষি ও ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন। পূর্বে তিনি একটি কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তার স্ত্রী লায়লা হাবিব পেশায় একজন ব্যবসায়ী, বিশেষ করে পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দুলুর দুই সন্তানের মধ্যে আহনাফ হাবিব ইনতেসার বর্তমানে বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত এবং ছোট ছেলে আহমিক হাবিব ইয়ারদান ছাত্র। হলফনামা অনুযায়ী, দুই ছেলের নামে কোনো সম্পদ বা ব্যাংক জমার তথ্য উল্লেখ নেই। আসাদুল হাবিব দুলুর বার্ষিক আয়ের বড় অংশ আসে কৃষি খাত থেকে।
হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি খাত থেকে ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭০ টাকা। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও দোকান ভাড়া ১৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৫৫ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৭০২ টাকা। শেয়ার ও ব্যাংক আমানত ৪৬ হাজার ৪৩৪ টাকা। নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৮২০ টাকাসহ তার হাতে ও বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে। নগদ অর্থ ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সোনালী ব্যাংকে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং ৩৮ হাজার ৭৬৯ টাকা (দুটি পৃথক হিসাব)।
অন্যান্য ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া (২৬,৬৭৭ টাকা), এবি ব্যাংক (৪৭,৬৭৭ টাকা), প্রাইম ব্যাংক (৩৫,৬০৬ টাকা), ডাচ-বাংলা ব্যাংক (৩৮,৭৬৯ টাকা), সিটি ব্যাংক (২,১৫৬ টাকা) এবং ইসলামী ব্যাংকে নামমাত্র স্থিতি (২৬ টাকা)।
বিনিয়োগ ও বাহন হিসেবে বিনিয়োগ, তালিকাভুক্ত নয় এমন কোল্ড স্টোরেজ অর্জন-এ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকের শেয়ার ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪০ টাকা। যানবাহন বলতে তার মালিকানায় রয়েছে দুটি মাইক্রোবাস, দুটি বাস, একটি ট্রাক এবং একটি নতুন গাড়ি। এর মধ্যে মাইক্রোবাস দুটির বর্তমান বাজারমূল্য ৬২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং বাস দুটির বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অন্যান্য- ইলেকট্রনিক্স পণ্য, আসবাবপত্র ও একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯৯ হাজার ১২০ টাকা। দুলুর স্থাবর সম্পদের মধ্যে জমির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। কৃষি জমি ৩৬.৫১২ একর। যার সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৮৭ লাখ ১২ হাজার ৮৫৯ টাকা।
অকৃষি জমি ৪.৫৮৫৭ একর। যার সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯১ টাকা।
ভবন ও অন্যান্য বলতে ঢাকার বনানীতে ৩ কোটি টাকা মূল্যের একটি ভবন, লালমনিরহাটে ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার সম্পদ এবং চা বাগান, রাবার বাগান ও মৎস্য খামার বাবদ ৩ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার ৫০ টাকার সম্পদ রয়েছে।
সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ৫২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৩২ টাকা।
স্ত্রী লায়লা হাবিবের নামে পরিবহন ব্যবসা, টিনশেড বাড়ি ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। তার মোট সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৮৭ টাকা।
বিএনপির এই নেতার হলফনামায় দেওয়া সম্পদের ব্যাপারে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, ‘‘প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু পারিবারিকভাবেই বিত্তশালী। তার সম্পত্তির হিংসভাগ পৈতৃকসূত্রে পাওয়া। এছাড়া নানা ব্যবসা বাণিজ্য করে সম্পদ আরও বাড়িয়েছেন।’’
নির্বাচনী হলফনানায় তিনি সম্পদের সঠিক তথ্য দিয়ে সততার স্বাক্ষর রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাধারণ ভোটাররা।
চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬%, পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল হাবিব দুলু ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ২০০১ সালে উপমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর বাঁধ নির্মাণ, আন্তঃনগর লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন চালু, টিটিসি ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন এবং ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের মতো উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি ‘‘জাগো বাহে তিস্তা বাচাই’’ আন্দোলনে প্রধান সমন্বায়ক। সামাজিক এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


