বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও এ শিল্পের সঙ্গে পরিবেশ দূষণের একটি বড় চ্যালেঞ্জ জড়িয়ে রয়েছে। এই দূষণ কমিয়ে পোশাক শিল্পকে আরও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (বিআরএফ) নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়েক। তার এই গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এবার তিনি এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট’ প্রতি বছরের মতো এবারও এ তালিকা প্রকাশ করেছে। চলতি বছর ‘দ্য এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় প্রকৌশল বিভাগে স্থান পেয়েছেন তিনি।
এর আগে তিনি মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশবান্ধব ফ্যাশন উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ‘গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এ বিশ্বের সেরা ১০ উদ্ভাবকের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। গত বছর লন্ডনের ওল্ড বেল-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার উদ্ভাবনী ধারণা ‘ডিকার্বনাইজেশন ল্যাব’ বিশেষভাবে স্বীকৃতি পায়।
তার উদ্ভাবিত ‘ডিকার্বনাইজেশন ল্যাব ফর টেক্সটাইল প্রসেস ইনোভেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে টেক্সটাইল শিল্পে এমন ডাইং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি উন্নয়ন করা হচ্ছে, যা কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে। ফলে ফ্যাশন ও পোশাক শিল্পে পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় ড. আব্বাস বলেন, তিনি এই অর্জনকে গবেষণা ও বাস্তব সমস্যার সমাধানমূলক কাজের প্রতি একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এটি তরুণ গবেষকদের জন্যও প্রমাণ যে বাংলাদেশ থেকেও বৈশ্বিক পর্যায়ে অবদান রাখা সম্ভব।
২০২৬ সালের এই তালিকায় বাংলাদেশের আরও দুইজন গবেষক স্থান পেয়েছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মারজানা আক্তার এবং আইসিডিডিআর, বি-এর জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ড. তাহমিদ আহমেদ।
এশিয়ান সায়েন্টিস্টের নিয়ম অনুযায়ী, এই তালিকায় স্থান পেতে হলে সংশ্লিষ্ট গবেষককে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আন্তর্জাতিক বা জাতীয় স্বীকৃতি অর্জন করতে হয়, অথবা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার কিংবা গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে হয়।
টেক্সটাইল খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়নে ড. আব্বাসের এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



