বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে স্বর্ণের আবেদন কেবল সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাসযোগ্য সঞ্চয় ও নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই স্বর্ণের গুরুত্ব আলাদা। তবে স্বর্ণের দাম ও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে নকল কিংবা স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া গয়নার উপস্থিতিও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ফলে অসতর্ক হলে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি এখন অনেক বেশি।

এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণ কেনার আগে জানা জরুরি—আপনার পছন্দের গয়নাটি আসল স্বর্ণ, নাকি কেবল বাহ্যিক ঝকঝকে প্রলেপ। ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে খাঁটি স্বর্ণ চেনার কিছু সহজ ও কার্যকর উপায় তুলে ধরা হয়েছে। চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
হলমার্ক পরীক্ষা করুন
স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নির্ধারণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো হলমার্ক যাচাই। আন্তর্জাতিক গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী,
-২৪ ক্যারেট স্বর্ণে ব্যবহৃত হয় ৯৯৯.৯
-২২ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ৯১৬
-২১ ক্যারেটের জন্য ৮৭৫
-আর ১৮ ক্যারেট স্বর্ণে থাকে ৭৫০
এই সংখ্যাগুলো গয়নার গায়ে খোদাই করা থাকে, যা তার ক্যারেট মান নির্দেশ করে। তবে পুরোনো বা পারিবারিক উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গয়নায় হলমার্ক নাও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য জুয়েলারির মাধ্যমে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
গয়নার গায়ে লেখা অক্ষর কী বোঝায়
অনেক স্বর্ণালংকারে কিছু ইংরেজি অক্ষর খোদাই করা থাকে, যা গয়নার প্রকৃত মান সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়—
GP / GEP: স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া, আসল স্বর্ণ খুবই কম
GF / RGP: সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণ রয়েছে
HGP / HEG: কমপক্ষে ১০ ক্যারেট বিশুদ্ধতা
এই ধরনের চিহ্ন থাকলে বুঝতে হবে, গয়নাটি সম্পূর্ণ খাঁটি স্বর্ণ নয়।
ঘরে বসেই খাঁটি স্বর্ণ যাচাইয়ের কৌশল
ত্বকে ঘষে দেখা:
খাঁটি স্বর্ণ ত্বকের রঙে কোনো পরিবর্তন আনে না। কিন্তু ঘষার পর যদি কালো, নীল বা সবুজ দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটি নকল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পানির পরীক্ষা:
একটি পাত্রে পানি নিয়ে গয়নাটি ফেলে দিন। আসল স্বর্ণ দ্রুত তলিয়ে যাবে। ভেসে থাকলে বা মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলে সন্দেহ করা উচিত।
চুম্বক ব্যবহার:
স্বর্ণ চুম্বকের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। গয়না যদি চুম্বকের সঙ্গে লেগে যায়, তবে সেটি খাঁটি স্বর্ণ নয়।
ভিনেগার পরীক্ষা:
গয়নার ওপর কয়েক ফোঁটা ভিনেগার ফেলুন। যদি রঙের কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে সেটি খাঁটি স্বর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সিরামিক প্লেট টেস্ট:
সাদা সিরামিক প্লেটে গয়নাটি ঘষুন। হলুদ দাগ পড়লে সেটি আসল স্বর্ণের লক্ষণ, আর কালো দাগ পড়লে বুঝতে হবে গয়নাটি নকল।
স্বর্ণ কেনা মানে কেবল একটি অলংকার কেনা নয়—এটি ভবিষ্যতের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি সিদ্ধান্ত। তাই আবেগের বশে নয়, তথ্য ও সচেতনতার ভিত্তিতে স্বর্ণ কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক যাচাই ও বিশ্বস্ত বিক্রেতা বেছে নিলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


