মিয়ানমারের কারারুদ্ধ সাবেক নেত্রী অং সান সু চির সাজা কমিয়েছে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সরকার। তার সাজার মেয়াদ সাড়ে চার বছর কমানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ২৭ বছরের কারাভোগ করছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রয়টার্সকে এ তথ্য তার আইনজীবী।

প্রতিবেদন অনুসারে, ৮০ বছর বয়সী সু চি একাধিক অপরাধের জন্য ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে উসকানি ও দুর্নীতি থেকে শুরু করে ভোট জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তার আইনজীবীর ভাষ্যমতে, মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আওতায় মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৪০ বছরে রূপান্তর এবং অন্যান্য বন্দির সাজার মেয়াদ এক-ষষ্ঠাংশ কমানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সু চিও এর অন্তর্ভুক্ত। তার সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়েছে। সে হিসাবে সাড়ে চার বছরের সাজা মওকুফ পাচ্ছেন তিনি।
সাজার পরিমাণ কমানো হলেও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সু চিকে বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, অং হ্লাইং ৪ হাজার ৩৩৫ বন্দিকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। গত ছয় মাসে এটি তৃতীয় পদক্ষেপ, যেখানে বন্দিদের সাধারণ ক্ষমা করা হলো। সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস ও এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়ে থাকে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী একটি নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটানোর পর থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে রাজনৈতিক অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক নেত্রী অং সান সু চি, সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, তাদের দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, হাজার হাজার কর্মী, বিক্ষোভকারী ও সামরিক জান্তাবিরোধী মিলিশিয়ার সদস্যরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


