জাহিদ ইকবাল : দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতীকীভাবে দলীয় কার্যালয় খুলে সাংগঠনিক উপস্থিতির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ পর্যন্ত অন্তত ৩৯টি স্থানে স্বল্প সময়ের জন্য কার্যালয় খোলা বা দলীয় কার্যক্রমের চেষ্টা হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা স্থায়ী রূপ পায়নি।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে সীমিত পরিসরে কার্যালয় খোলা হয়।
অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ছিল ঝটিকা উপস্থিতি—কিছু সময় অবস্থান, পতাকা উত্তোলন বা ব্যানার টানিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে রাজশাহী, যশোর, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, গাইবান্ধাসহ অন্তত ১৫ জেলায় দলীয় পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা ও ছোট পরিসরের মিছিলের দৃশ্য দেখা গেছে।
এসব ঘটনায় কোথাও কোথাও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে নেতাকর্মীদের। কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা তৈরি হলেও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
রাজধানী ঢাকায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে।
ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ের ভাঙা গেটের সামনে মহিলা লীগের কয়েকজন সদস্য খুব ভোরে উপস্থিত হয়ে হাতে লেখা ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। ছয়-সাতজন নারী স্বল্প সময় অবস্থান করে দলীয় স্লোগান দেন এবং ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সেখান থেকে সরে যান।
এর আগে গুলিস্তানে দলের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি গোপনে দলীয় পতাকা টানানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই পতাকাটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং সেখানে আর কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখা যায়নি।
জেলা পর্যায়ে খোলা বেশিরভাগ কার্যালয়ই দীর্ঘসময় চালু রাখা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়ভাবে প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার কারণে অনেক জায়গায় তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। কিছু স্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, ২৬ মার্চের আগে অন্তত একবারের জন্য হলেও প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কার্যালয় খুলে সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার কৌশল নিতে পারে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের শক্তি-প্রদর্শন ও তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয় রাখার বার্তা হতে পারে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। স্থানীয় প্রতিক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করবে এসব কার্যালয় ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে চালু রাখা সম্ভব হবে কি না। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে প্রতীকী কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হতে পারে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


