জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় এক পঙ্গু ও অসহায় বাবাকে জীবন্ত মাটিচাপা দিতে ঘরের ভেতর গোপনে বিশাল গর্ত (কবর) খোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে তার মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোস্তাকিম (২৫) নামের ওই তরুণকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন এলাকাবাসী।

গত বুধবার (৮ জুলাই) উপজেলার বানিয়াচাপড় গ্রামে এ গাঁ শিউরে ওঠা ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াচাপড় গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম (৪৮) পাঁচ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। কোমর থেকে দুই পা অবশ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে তিনি বিছানাগত। বড় মেয়ে সুরাইয়া আক্তার এম এ পাস করলেও পরিবারের জীবিকার তাগিদে মা ও অন্য ভাই-বোনদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী বগুড়ার দুপচাঁচিয়া শহরে ফুচকা বিক্রি করেন। আর পঙ্গু সালাম নিজের টিনশেড মাটির বাড়ির খোলা বারান্দায় বড় ছেলে মোস্তাকিমের তত্ত্বাবধানে থাকতেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রথম দিকে মোস্তাকিম বাবার সেবা করলেও দিন দিন সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং বাবার ওপর চড়াও হয়। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই পঙ্গু বাবাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিতেন। গত কয়েক দিন ধরে মোস্তাকিমের সন্দেহজনক আচরণ দেখে ভয় পেয়ে যান বাবা সালাম। মোস্তাকিম একা একা ঘরের ভেতর বালতি হাতে কী যেন করছিল।
গত বুধবার দুপুরের দিকে সালাম তার চাচাতো ভাই রাজুকে ডেকে ঘরের ভেতর দেখার অনুরোধ করেন। রাজু ঘরের দরজা খুলে ভেতরে এক কোনে প্রায় ৫ ফুট প্রস্থ ও ৭ ফুট গভীর একটি বিশাল গর্ত দেখতে পান। একই সঙ্গে পুরো ঘর জুড়ে মাটির বস্তা ও অন্য ঘরের মেঝেতে কাদা-মাটির স্তূপ দেখতে পান।
ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় গ্রামবাসী মোস্তাকিমকে আটক করে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। তবে মোস্তাকিমকে মাদকাসক্ত দাবি করে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার মা ও বড় বোন এলাকাবাসীর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দ্রুত গ্রাম ত্যাগ করেন।
গ্রামের বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন, মোস্তাকিম তার পঙ্গু বাবাকে গোপনে জীবন্ত পুঁতে রাখার জন্যই এই গর্ত খুঁড়েছে এবং মাটিচাপা দেওয়ার কাদা প্রস্তুত করেছে। পরিবার ও সমাজের কাছে বোঝা হয়ে যাওয়া বাবাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য।
ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমাকে মাটি চাপা দিয়ে হত্যা করার জন্যই আমার ছেলে গোপনে ঘরের ভেতর গর্ত খুঁড়েছে। আমার কাছে প্রতিদিন বাহির থেকে লোকজন আসত। নুন থেকে পান খসলেই সে আমাকে গালাগালি করত। হাতে যা থাকতো তাই নিয়ে মারমুখী হতো। মাঝে মধ্যেই হত্যা করার হুমকি দিত। বিষয়টি জানাজানি না হলে হয়তো আমার কেউ খোঁজই পেত না। আমি ছেলের জন্য খুব ভয় পাই। আল্লাহর কাছে মৃত্যুর জন্য কান্নাকাটি করি, কিন্তু মৃত্যু তো হয় না। আমি আর বাঁচতে চাই না। জীবনে অনেক কষ্ট করে চার সন্তানকে মানুষ করেছি। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজের সম্পদ বিক্রি করে চিকিৎসাও করাইনি। এখন আমার স্ত্রীও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। পৃথিবীতে আমার আসলে কেউ নেই।’
এ সময় তিনি বেঁচে থাকা পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন।
এ বিষয়ে মোস্তাকিমের বড় বোন সুরাইয়া বেগম ভিন্ন দাবি করে বলেন, ‘আমার ভাই নেশাগ্রস্ত, এটা ঠিক। তবে বাবাকে হত্যার জন্য গর্ত খোঁড়ার বিষয়টি সঠিক নয়। এর পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে। আমরা থানায় অভিযোগ করব, পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ম. আব্দুল করিম বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



