ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন প্রায় সাড়ে তিনশ স্বতন্ত্র প্রার্থী; যা মোট বাতিল মনোনয়নত্রের প্রায় অর্ধেক।

আর যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাদের তিন চতুর্থাংশই বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন।
৩০০ আসনের বৈধ ও বাতিল মনোনয়নপত্রের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের তথ্যে গড়মিলে ঝরে পড়েছেন তারা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জন।
এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ৪৭৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাইয়ে বাদ পড়েছে অন্তত ৩৫০ জন। এই সংখ্যা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ এবং বাতিল হওয়া মোট প্রার্থীর ৪৮ শতাংশ।
ইসির জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে।
মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী- ঋণখেলাপি, করখেলাপি, বিলখেলাপি, মামলার তথ্য গোপন, দ্বৈত নাগরিকত্ব, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর বিবরণী সঠিকভাবে জমা না দেওয়াসহ নানা ধরনের জটিলতায় বিএনপির ২৭, জামায়াতের ৯, ইসলামী আন্দোলনের ৪১ ও জাতীয় পার্টির ৫৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
এছাড়া সিপিবি, এনসিপিসহ অধিকাংশ দলের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
সোমবার থেকে শুক্রবার পযন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিএনপির বাতিল হওয়া ২৭ জনের মধ্যে বেশিরভাগই দলীয় পরিচয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। একই আসনে দলীয় একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এবারের নির্বাচনে বিএনপির ৩৩১জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এখন দলটির ২৬৭ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। এ দলের ২৭৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১ জনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় মাঠে রয়েছেন ২২৭ জন।
দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে জাতীয় পার্টির। দলটির ২২৪ জনের মধ্যে ৫৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এখন মাঠে রয়েছেন ১৬৭ জন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নিজ আসনে সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। সেই স্বাক্ষর এবং তথ্যের গরমিলের কারণেই বেশির ভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ৩ হাজার ৪০৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে জমা দেন ২ হাজার ৫৬৮ জন।
সবশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেবার বাছাইয়ে বাদ পড়ে ৪২৩ জন।
১ শতাংশের স্বাক্ষরে গড়মিল, হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ না দেওয়া, লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকা, মামলার তথ্য গোপন করার কারণে বাদ পড়েন তারা।
ডিএনসিসি এলাকায় ১০৬ টি পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর রক্ষার জন্য স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করছে ডিএনসিসি
এবার মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সোমবার থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন সংক্ষুব্ধরা। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবে ইসি। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হবে।
এরপর নির্ধারণ হবে চূড়ান্ত প্রার্থী। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


