ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে ফেরার আশায় সেখানে জড়ো হয়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক।

বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চেকপোস্টের সামনে নারী, শিশু ও বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে অবস্থান করছেন তারা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সীমান্ত এলাকায় এমন ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায় আগের দিনও।
সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কেউ প্লাস্টিক বিছিয়ে বসে আছেন, আবার কেউ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। একটি অস্থায়ী ছাউনিতে প্রায় একশ বাংলাদেশি অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া বাইরে আরও কয়েক ডজন মানুষ অপেক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন জেলায় অনুপ্রবেশকারী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটকে রাখার জন্য বিশেষ কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর অবৈধভাবে ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেকেই দ্রুত দেশে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় মোট ১২ জনকে বিশেষ কেন্দ্রগুলোতে রাখা হয়েছে। মালদার ইংরেজবাজার এলাকার চন্দনপার্কে গড়ে তোলা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে ৯ জনকে। তাদের মধ্যে তিনজন নারী এবং ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। রোববার গাজোল থানার পান্ডুয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের লালগোলায় স্থাপিত বিশেষ কেন্দ্রে প্রথমে তিনজনকে রাখা হয়েছিল। পরে মঙ্গলবার আরও ১১ জন বাংলাদেশিকে আটক করে সেখানে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সীমান্তে অপেক্ষমাণ বাংলাদেশিদের ভাষ্য, জীবিকার তাগিদে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ ও বসবাস করছিলেন। কিন্তু নতুন পরিস্থিতির কারণে তারা আতঙ্কিত হয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে তারা নিজেদের পরিস্থিতির কথা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জানিয়েছেন। সীমান্ত পারাপারের বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



