ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ৩১ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা এখনও আটকা রয়েছে। জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারছে না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

পারস্য উপসাগরে লক্ষ্যবস্তুর উপর ইরানের ছোড়া মিসাইলের খুব কাছেই অবস্থান ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিএসসির মালিকানাধীন জাহাজ জয়যাত্রার। অবশ্য এখন জাহাজটি কিছুটা সরে এসে শারজাহর আউটার পোর্ট লিমিটের মধ্যে নিরাপদে অবস্থান নিয়েছে। জাহাজের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা নাবিকরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে ধৈর্য ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কয়েকবার হরমুজ প্রণালি পাড় হওয়ার চেষ্টা হলেও অতিমাত্রায় ঝুঁকির কারণে আপাতত তা স্থগিত রাখা হয়েছে। এখন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাহাজটিকে পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পার করে আরব সাগরে আনার চেষ্টা চলছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, যদি ইরান থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়া যায়, তাহলে জাহাজ দ্রুত বের হয়ে আসতে পারবে।
এদিকে, যুদ্ধাবস্থাতেও কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে আরব আমিরাতে পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজটি ব্যবহার করতে বিদেশি চার্টার্ড প্রতিষ্ঠান বিএসসিকে প্রস্তাব দিয়েছে। পণ্য লোডিং ও আনলোডিংয়ে বন্দরে যথাক্রমে ৫ ও ৮ দিন সময় লাগবে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
কমোডর মাহমুদুল মালেক আরও বলেন, যদি জাহাজটি জেটির পাশে (অ্যালং সাইড) থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ এয়ার ডিফেন্স কাভারেজ পাওয়া যাবে। এতে সেফটি, সিকিউরিটি ও যেকোনো সাপোর্ট সিস্টেম বন্দর থেকে বেশি সুবিধা দেবে, ক্রুদের মনোবল বাড়বে এবং লজিস্টিক সাপোর্ট সহজ হবে।
তবে সাবেক নাবিকরা বলছেন, জাহাজ ও ৩১ নাবিকের নিরাপত্তার কারণে ব্যবসার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে জাহাজকে বের করা উচিত। বিশেষ করে এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ে বিএসসির অন্য একটি জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি মিসাইলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যেখানে একজনের মৃত্যু হয়।
মার্চেন্ট মেরিনার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত ইরান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা। একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারণ করে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি থেকে বের করে আনা সবচেয়ে নিরাপদ।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত হয়ে কাতারে পৌঁছেছিল। কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে আরব আমিরাতের জেবল আলী বন্দরে যাওয়ার পথে যুদ্ধের কবলে পড়ে। বিএসসি নিশ্চিত করেছে, জাহাজে ২-৪ মাসের খাবার, পর্যাপ্ত জ্বালানি ও ফ্রেশ ওয়াটার রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


