দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই টালমাটাল অবস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় সভাপতির দায়িত্বে থাকা নাজমুল হাসান পাপনের পদত্যাগের পর গত দুই বছরেরও কম সময়ে তিনবার পরিবর্তন হয়েছে বোর্ডের শীর্ষ নেতৃত্বে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নেন ফারুক আহমেদ। এরপর ২০২৫ সালে নতুন করে সভাপতি নির্বাচিত হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে সেই কমিটিও বেশিদিন টেকেনি। নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বুলবুলের কমিটি ভেঙে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তামিম ইকবাল। যার দায়িত্ব গতকাল মঙ্গলবার থেকেই নিয়েছেন তারা।
বিসিবির এই অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে এবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান অবস্থা যেন একেবারে সার্কাসে পরিণত হয়েছে।
আফতাব বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডে যে পরিমাণ সার্কাস চলছে, ২ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে দেখলেও আপনার টাকাটা বৃথা যাবে না। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার্কাস হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড।’
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এই সাবেক ক্রিকেটার সেখানকার ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা টেনে বলেন, তিনি তিন বছর ধরে আমেরিকায় থাকলেও সেখানকার ক্রিকেট বোর্ড কোথায়, কারা পরিচালনা করেন—এসব কিছুই তার জানা নেই। অথচ তিনি নিয়মিত ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং কাজ করছেন। তিনি আরও জানান, ‘আমেরিকায় আছি তিন বছর। ক্রিকেট বোর্ড কোথায় সেটাই জানি না। কারা মেম্বার সেটাও না। কিন্তু প্রতিদিন ক্রিকেট নিয়েই কাজ করছি।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি আরও বলেন, এখানে কোনো কিছুই গোপন থাকে না। মিডিয়ার কারণে মানুষ না চাইতেও সবকিছু জেনে যায়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কারও ব্যর্থতা লুকানোর সুযোগ নেই। মিডিয়া এমনভাবে প্রচার করে যে আপনি না জানলেও জানতে বাধ্য।’
শেষে হতাশা প্রকাশ করে আফতাব বলেন, এই পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে তা তিনি জানেন না। তার মতে, এখন আর ক্রিকেট নেই, যা চলছে তা শুধু এক ধরনের ‘সার্কাস’। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি কৌতুক করে বলেন, ‘এই সার্কাস দেখার জন্য সবাই প্রস্তুত থাকুন’।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


