সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে সমালোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে মনিকা কবির। নানা বিতর্কে জড়িয়ে তিনি সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানের একটি ব্যস্ত সড়কে একজন বৃদ্ধ পথচারীকে মারধরের ঘটনায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এ ঘটনায় সামাজিকভাবে ক্ষোভের মুখোমুখি হন মনিকা।
গুলশানের এই ঘটনার পর মনিকা কবিরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এক মুঠোবার্তায় মনিকা কবির নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা আপনার মেয়েদের ওপর পানি ফেলেন। আমি চলে গেলে এখানে কোনো বিদেশি মেয়ে আসবে না। বাংলাদেশ আমাকে কষ্ট দিলে আমিও বাংলাদেশকে কষ্ট দেব। আমি আপনার দেশের জন্য অনেক কিছু করেছি এবং আপনার দেশের সংস্কৃতিকে আমার দেশে পরিচিত করেছি।”
ঘটনার বিস্তারিত জানা গেছে, কয়েকদিন আগে গুলশান-২ এলাকায় টিকটকের ভিডিও ধারণের সময় একজন বৃদ্ধ পথচারীর ব্যাগ তার সঙ্গে সামান্য লাগতেই মনিকা কবিরের মেজাজ হারান। অভিযোগ ওঠে, তিনি বৃদ্ধকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং নিজের হাতে থাকা ব্যাগ ছুড়ে মেরে তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন।
ঘটনার ভিডিও মনিকা নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন, যা ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশের মানুষ তীব্র সমালোচনা শুরু করে। এরপর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম মনিকা কবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাকে হাজির করার জন্য সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
প্রসঙ্গত, মনিকা কবিরের প্রকৃত নাম মারিয়া ভ্যালিরিয়েভনা। পরিবারে তাকে ‘মনিশকা’ নামে ডাকা হয়। তিনি রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ ও মস্কোয় বেড়ে উঠেছেন। তার মা রুশ নাগরিক ম্যারিয়া গোজেন এবং বাবা একজন ভারতীয় চামড়া ব্যবসায়ী।
বাবার ব্যবসার সূত্রে ২০১২ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন মনিকা। তার খোলামেলা পোশাক ও যত্রতত্র চলাফেরার কারণে আগেই নেটিজেনদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম হয়। সাম্প্রতিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


