স্পোর্টস ডেস্ক : সেন্ট ভিনসেন্ট থেকে অ্যান্টিগায় নেমেই একটা বার্তা পাওয়া গেল, বৃষ্টিকেও রাখতে হবে ভাবনায়। গত পরশু দ্বীপের প্রাণকেন্দ্র সেন্ট জোনসের রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ মাঠে এসেও অনুশীলন করতে পারেনি বৃষ্টির বাধায়। অবশ্য স্থানীয়রা আশ্বস্ত করছেন, বৃষ্টি নিয়ে ভাবার কিছু নেই, বাদলধারা এখানে হুট করে আসে, দ্রুত চলেও যায়। বৃষ্টির লুকোচুরির মধ্যে খেলা ঠিকঠাকই হয়ে যায়।

tiger

Advertisement

এ কথার প্রমাণও হাতেনাতে, অ্যান্টিগায় গ্রুপ পর্বের যে চারটি ম্যাচ হয়েছে, প্রতিটিই ঠিকঠাক শেষ হয়েছে। এমনকি ইংল্যান্ড বৃষ্টির বাধার মধ্যেই তাদের সুপার এইটের কঠিন সমীকরণ মিলিয়েছে। শেষ আঠের যে চারটি ম্যাচ আছে, সেগুলোও ঠিকঠাক হয়ে যাবে বলেই অ্যান্টিগায়ানদের আশা। কারণ, ক্রিকেট এখানে উৎসবের নাম। সেই উৎসব মাটি করার সাধ্য কার! স্যার ভিভ রিচার্ডস, অ্যান্ডি রবার্টস, কার্টলি অ্যামব্রোস, রিচি রিচার্ডসনদের অ্যান্টিগার প্রতিটি ধূলিকণার সঙ্গে যেন ক্রিকেট মেশে। আর এই দ্বীপে বড় এক লক্ষ্য নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ।

দেশ থেকে বাংলাদেশ দল রওনা দিয়েছিল সুপার এইটে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। এখন স্বপ্নটা তাদের আরও বড়। ‘আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়’—ডালাসে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রিশাদ হোসেন তো আর এমনি এমনি কথাটা বলেননি। আর সেন্ট ভিনসেন্টে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে রিশাদ বলেছেন, ‘আমরা সুপার এইটে আরও ভালো খেলব।’ সেই ‘আরও ভালো খেলার’ মঞ্চ তাঁরা পাচ্ছেন অ্যান্টিগায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে অবশ্য বেশির ভাগ সময় ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে হওয়া ২০০৭ বিশ্বকাপের আনন্দদায়ী স্মৃতিগুলো ঘুরেফিরে আসে ক্রিকেট রোমান্টিকদের মনে। এবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশ লিখে চলেছে নতুন কীর্তি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার বাংলাদেশ জিতেছে তিনটি ম্যাচ; ২০ ওভারের শ্রেষ্ঠত্ব মঞ্চে এক টুর্নামেন্টে এত বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ড তাদের আগে কখনো ছিল না। একবার ভাবুন, যে শরীফুল ইসলামকে বিশ্বকাপের আগেও বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইক বোলার ভাবা হচ্ছিল, চোটে পড়ায় একাদশের বাইরে থাকলেন। চোট সেরে যাওয়ার পর এখন আর সুযোগই পাচ্ছেন না একাদশে। এই বাংলাদেশ নিয়ে মুগ্ধ হচ্ছে অনেক ক্রিকেট পণ্ডিতই।

সেন্ট ভিনসেন্ট থেকে আসার পথে ধারাভাষ্যকার অ্যালেন উইলকিনস যেমন বললেন, ‘বাংলাদেশ ভালো অলরাউন্ড সাইড। সব বিভাগই কাভার করেছে। অধিনায়ককে আমার ভালো লেগেছে—নাজমুল হোসেন শান্তর অধিনায়কত্ব। সিনিয়র ক্রিকেটাররা তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন। সাকিব-মাহমুদউল্লাহ-লিটন—এটা ভালো দিক। বাংলাদেশ সামনে আরও ভালো করতে পারে।’

আসলেই শান্তর নেতৃত্ব দেখার মতো। মাঠে তাঁর বেশির ভাগ সিদ্ধান্ত, সতীর্থদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনা, ক্রিকেট মস্তিষ্ক, পরিণতবোধ, দারুণ ফিল্ডিং—সব বিভাগেই ‘এ প্লাস’ পাবেন। শুধু এক জায়গায় শান্ত এখনো নিষ্প্রভ, ব্যাটিংয়ে জ্বলে উঠতে পারেননি। যেহেতু তিনি ব্যাটার; রান না পাওয়ায় তাঁকে নিয়ে সমালোচনা, ব্যঙ্গ-রসিকতা হচ্ছে এন্তার।

শান্তসহ দলের টপ অর্ডার ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ শুধুই মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। কী দুর্দান্ত বোলিং করছেন মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম সাকিব। মোস্তাফিজকে এখন ‘ডটের রাজা’ও বলতে পারেন! এই বিশ্বকাপে ফিজ এখন পর্যন্ত ডট দিয়েছেন বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৭টি। নেপালের বিপক্ষে ১৯তম ওভারে মেডেন ওভারসহ নিয়েছেন ১ উইকেট—ডেথ ওভারে এতটাই ভয়ংকর মোস্তাফিজকে দেখা গেছে সেন্ট ভিনসেন্টে।

ফিজ যদি ‘ডেথ ওভারের ত্রাস’ হন, তরুণ তানজিম সাকিব পাওয়ার প্লেতে তছনছ করে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার। যে ডেল স্টেইন তাঁর আইডল, সাবেক প্রোটিয়া ফাস্ট বোলারকে পাওয়া গেল অ্যান্টিগায় আসার পথে। সেন্ট ভিনসেন্ট বিমানবন্দরে স্টেইনের মুখে শুধুই স্তুতি তানজিমকে নিয়ে, ‘নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে তার আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখে সত্যি ভালো লেগেছে। অলরাউন্ড প্যাকেজ। শুধু উইকেট পাচ্ছে, সে কারণে নয়। আমি তার আক্রমণাত্মক মনোভাব পছন্দ করি।’

তানজিমের আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রশংসিত হলেও আইসিসির আচরণবিধির আতশি কাচে ভিন্ন কিছু ধরা পড়েছে। নেপালি অধিনায়কের সঙ্গে যে তাঁর ‘লড়াই’টা হয়েছিল সেদিন, সেটির জন্য তরুণ পেসারকে শাস্তি পেতে হয়েছে। শাস্তি হিসেবে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ ও ১ ডিমেরিট পয়েন্ট পেলেও এতে নিশ্চয়ই তাঁর আক্রমণাত্মক মনোভাবে প্রভাব পড়বে না।

শেষের নাটকীয়তায় ক্রোয়েশিয়াকে রুখে দিলো আলবেনিয়া

বেশির ভাগ আইসিসি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বাজে পারফরম্যান্সের পেছনে নানা বিতর্কিত ঘটনা থাকে। এবার তা নয়, দল নির্বাচন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত পুরো দলেই স্বস্তির বাতাবরণ। একটা দলের অনেক দূর এগোনোর এটাই প্রথম শর্ত। এই আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ সুপার এইটে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারানোও তাই অসম্ভব মনে করছে না! তাদের মনে যে উঁকি দিচ্ছে সেমিফাইনালের স্বপ্ন!

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.