ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দাখিল ছাড়া নতুন করে ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে না। তবে শিক্ষার্থী ও বিশেষ কিছু শ্রেণির হিসাবধারীদের জন্য এই নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়েছে। মূলত করের পরিধি আরও বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এমন প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব নেওয়ার সময় টিআইএন সনদ দেখাতে হবে না। এছাড়া নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট যেমন ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব, সরকারি ভাতা সুবিধা নেওয়ার জন্য যত হিসাবসহ পেনশনভোগীদের হিসাবের ক্ষেত্রে টিআইএন লাগবে না। অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে এখন থেকে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার সময় বাধ্যতামূলকভাবে টিআইএন সনদ জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া ব্যাংকে রাখা টাকার ওপর আবগারি শুল্ক বসানোর সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হচ্ছে। তবে ঋণের টাকার ক্ষেত্রে একবার আবগারি শুল্ক আরোপ হবে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই প্রস্তাবিত বাজেট বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম ও দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। এবারের বাজেটের মূল ভাবনায় রাখা হয়েছে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা। ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’— এই সম্ভাব্য প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই অর্থমন্ত্রী আগামী এক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করবেন।
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের পরও বাজেটে ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকেই সোয়া লাখ কোটি টাকার (১ লাখ ১২ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা) বেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। বাকি অর্থ বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। এ ছাড়াও নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।
এ ছাড়াও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার সঙ্গে আসন্ন বাজেটে বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে। অন্যদিকে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া জ্বালানি তেল ও ভোজ্যতেলের উৎসে কর কমানোসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব আসতে পারে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত সম্ভাব্য বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে। তথ্য অনুযায়ী, এনবিআর রাজস্ব আয় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত আয় ২৫ হাজার কোটি টাকা আর কর বহির্ভূত আয় ৬৬ হাজার কোটি টাকা।
চলতি বছরের মে মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি যেখানে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে; সেখানে আগামী অর্থবছরে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। তাদের মতে, এই বিশাল অঙ্কের বাজেট বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই কঠোর বাজার মনিটরিং এবং সঠিক মুদ্রানীতির সুষম সমন্বয় ছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ ও উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



