টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক যেন দুর্ঘটনা ঘটছেই। কিছুদিন আগেই মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুলের। সেই শোক কাটিয়ে উঠার আগেই খবর আসে, আরেক অভিনেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায় মারা গেছেন। এবার আরও এক দুঃসংবাদ এল। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন বিশিষ্ট পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়।

‘যত কাণ্ড কলকাতায়’ সিনেমার গল্পকার নিজেই কলকাতার বুকে নিখোঁজ হয়েছেন। যা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্মাতার স্ত্রী মৌপিয়া জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর থেকেই কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তার।
মৌপিয়া জানিয়েছেন, দুপুরে ব্যাংকে গিয়েছিলেন উৎসব। কিন্তু তারপর থেকে খোঁজ নেই তার। অদ্ভূত বিষয় হচ্ছে, তার স্বামী ফোন বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন। ব্যাংকের ওটিপি আসার কথা থাকায় নিজের ফোন বাড়িতে রেখে যান। সঙ্গে বাড়ির অন্য একটি ফোন নেন। ব্যাংকের কাজে গিয়ে প্রয়োজনীয় ফোনটি কেন বাড়িতে রেখে গেলেন, সেটিই এখন বুঝতে পারছেন না কেউ।
এ ঘটনায় পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, উৎসবের সঙ্গে থাকা ফোনটির সবশেষ লোকেশন ছিল উল্টোডাঙা স্টেশন এলাকা। দুপুর ২টা ২২ মিনিটে শেষবার স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় তার। এরপর থেকেই সুইচড অফ। পরিবারের আশঙ্কা, ট্র্যাফিক জ্যাম এড়ানোর জন্য হয়তো ট্রেনে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এরপর কী হয়েছে, তা এখনো রহস্যে ঘেরা।
এদিন বিকেলেই নির্মাতার ফেসবুক প্রোফাইলের ডিসপ্লে পিকচার ও কভার ফটো পরিবর্তন করা হয়েছে। তার স্ত্রীর দাবি, এসব নাকি তিনি নিজেই করেছেন, ব্যাংকে যাওয়ার আগে স্বামী তাকে এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর এ কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না অনেকেই। কারও মতে, তার স্ত্রী কি কিছু গোপন করার চেষ্টা করছেন?
মৌপিয়া দাবি করেছেন, কিছুদিন ধরেই সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন উৎসব। এ নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আনন্দপুর থানায় এরইমধ্যে নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করা হয়েছে এবং লালবাজারের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
প্রসঙ্গত, উৎসব হচ্ছে টালিউড ইন্ডাস্ট্রির এলিট প্যানেলের পরিচালক না হলেও বেশ পরিচিত মুখ। ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’র মতো সিনেমার গল্প লিখেছেন। অনীক দত্তর টিমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘ক্যাবারে’র মতো ওয়েব সিরিজ পরিচালনাও করেছেন। একাধিক শর্টফিল্ম ও ওয়েব সিরিজ তৈরির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নির্মাতা উৎসব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


