মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাতের একটি ইতিবাচক সমাধানের আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হারও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নিচে নেমে এসেছে। আর এই জোড়া প্রভাবেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম এক ধাক্কায় ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার হয়েছে। অথচ আজ দিনের শুরুতেই ধাতুটির দাম গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগামী জুনে সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক সোনার দাম (গোল্ড ফিউচার্স) শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫২৯ দশমিক ৩০ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘হাই রিজ ফিউচার্স’-এর মেটালস ট্রেডিং বিভাগের পরিচালক ডেভিড মেগার এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ট্রেজারি ইল্ডের টানা বাড়তে থাকার প্রবণতা থেকে বাজার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। আর সে কারণেই সোনার দাম সাম্প্রতিক সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি নোটের মুনাফার হার ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার বাড়লে সোনা সঞ্চয় রাখার আগ্রহ কমে যায়; কারণ সোনা থেকে কোনো নিয়মিত লভ্যাংশ বা সুদ পাওয়া যায় না।
ডেভিড মেগার আরো বলেন, যুদ্ধাবস্থার যেকোনো ধরনের সমাধান বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া সোনার বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত। এর ফলে বাজারে সুদের হার কমবে—এমন একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়, যা সোনার বাজারকে চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে বলে আবারও আশ্বাস দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটছে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন।
শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।
সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার চড়া রাখতে হয়। সোনাকে মূল্যস্ফীতি মোকাবেলার নিরাপদ মাধ্যম মনে করা হলেও, সুদের হার চড়া থাকলে এই ধাতুটির বাজারে মন্দা দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (ফেড) আগামী জুনের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে—এমন সম্ভাবনা এখন ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগকারী।
তবে সোনার এই সুসময় সাময়িক হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক সিটি। তারা জানিয়েছে, নিকটবর্তী সময়ে সোনা নিয়ে তারা সতর্ক অবস্থানে থাকছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলারে নেমে আসতে পারে।
বুধবার রাতের শেষভাগে ফেডারেল রিজার্ভের এপ্রিল মাসের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কার্যবিবরণী (মিনিটস) প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে, যা আগামীতে বাজারের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। রুপার (স্পট সিলভার) দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৪২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৪২ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৬৫ দশমিক ১২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



