বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু সেই দামে বাজারে মিলছে না গ্যাস।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর হাজারীবাগ, নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খুচরা দোকানে ‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। বিক্রেতারা দাবি করছেন, কোম্পানিগুলো চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় তারা নিয়মিত স্টক পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে, যেসব দোকানে গ্যাস মিলছে, সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে।
রাজধানীর নিউমার্কেটে রান্না জন্য এলপিজি সিলিন্ডার নিতে আসেন গৃহিনী ঝুমা আক্তার। তিনি বলেন, “আমার বাসা আজিমপুরে। সকালে রান্না বসাতে গিয়ে দেখি গ্যাস শেষ। স্থানীয় বাজারে গিয়ে দেখি কোথাও গ্যাস নেই। তাই নিউমার্কেট এসেছি। এখনে প্রথমে দাম চেয়েছে ১৬৫০ টাকা, পরে ১৬০০ টাকা রেখেছে।”
কারওয়ান বাজারে নিজের বাসার জন্য গ্যাস সিলিন্ডার নিতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী দিগন্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “মাসের শুরুতে শুনি সরকার দাম কমিয়েছে। কিন্তু সেই দামে আজ পর্যন্ত একটি সিলিন্ডার কিনতে পারিনি। প্রশাসন যদি তদারকি না করে, তবে এই দাম ঘোষণা করে লাভ কী? এলপিজি বাজারের এই নৈরাজ্য বন্ধ করতে কেবল দাম নির্ধারণ নয়, বরং কঠোর বাজার তদারকি বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা জরুরি।”
হাজারীবাগের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, “রমজান মাসে আমাদের ইফতার তৈরি করা লাগে। এই সময়ে গ্যাসের চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু বেশি দাম দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছি না। প্রতিদিন আমাদের বাণিজ্যিক সিলিন্ডার লাগে। সংকটের কথা বলে প্রতি সিলিন্ডারে ২০০-৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব খাবারের দামের ওপর পড়ছে।”
একই বাজারের খুচরা এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতা সাফিন সিকদার বলেন, “কোম্পানি আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার দিচ্ছে না। আগে যেখানে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন গাড়ি আসত, এখন আসছে ১ দিন। ডিলাররা বলছে তাদের নাকি কোম্পানি থেকে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে, এর ফলে আমরাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছি না।”
কারওয়ান বাজারে ওমেরা এলপিজি ডিলার পয়েন্টের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দাম বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী কেজি সরবরাহ পাচ্ছে না। এছাড়াও এলসি জটিলতা আর ডলার সংকটেরর জন্য চাহিদামতো গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। শিপমেন্ট ও পরিবহন জটিলতা তো আছেই।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বর্তমানে বাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম হলো: ৫.৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডার ৬১৫ টাকা, ১২.৫ কেজি ওজনের ১,৩৯৭ টাকা, ১৫ কেজি ওজনের ১,৬৭৬ টাকা। ১৮ কেজি ওজনের ২,০১১ টাকা। ৩০ কেজি ওজনের ৩,৩৫২ টাকা এবং ৪৫ কেজি ওজনের ৫,০২৮ টাকা।
সূত্র : রাইজিংবিডি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


