Advertisement

বাজারে ভোজ্যতেল সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খুচরা বাজারে অনেক জায়গায় সয়াবিন তেল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও আবার সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট

ভোজ্যতেলের সংকটের পেছনে আমদানি সংকোচন ও সরবরাহ ঘাটতিকে দায়ী করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত বাজার তদারকি জরুরি। অন্যথায় ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। আর ক্যাব বলছে, তেলের সংকট মূলত কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে।

প্রয়োজন সরকারের জোরদার মনিটরিং ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। আগের মতো কোম্পানিগুলো থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যেটুকু আসে সেটাও খুব সীমিত।

তবে টাকা হলে মাল ঠিকই পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে দাম বেশি ধরে মেমোতে কম দেখায়। মূলত মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে একটা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় আমদানিকারকদের খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি ডলার সংকটের কারণে সময়মতো এলসি খোলা যাচ্ছে না।
ফলে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এবং বাজারে সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে।
শনিবার (১১ মার্চ) রাজধানীর সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, ধূপখোলামাঠ, রায়সাহেব বাজার, নয়াবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের অধিকাংশ দোকানে পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও এক লিটার ও দুই লিটারের বোতল মিললেও পাঁচ লিটারের বোতল খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। অনেক দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। কিছু দোকানে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তবে বাজারে ক্যানোলা তেল পাওয়া যাচ্ছে, যদিও এর দাম তুলনামূলক বেশি। খুচরা দোকানদাররা জানিয়েছেন যে সিটি গ্রুপ, পুষ্টি ও তীর ব্র্যান্ডের তেলের ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলেও অনেক সময় তারা ফোন ধরছেন না। আবার কেউ কেউ বলছেন, তাদের কাছে তেল নেই। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে মৌলভীবাজার থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল কিনছে সে অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এক্ষেত্রে আরও একটি অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। কিছু ব্যবসায়ী বেশি দামে তেল বিক্রি করলেও মেমো বা চালানে কম দাম দেখাচ্ছেন। এতে বাজারে স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে সূত্রাপুর বাজারের আদনান অ্যান্ড আরাফাত ট্রেডাস মো. ফারুক হোসেন বলেন, ডিলাররা তেল দিচ্ছে না। তারা বলছে, টাকা দিয়ে বসে আছি, মিল থেকে তেল পাচ্ছি না। এজন্য বাজারে সরবরাহ কমেছে। গায়ের রেট থেকে দাম বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত পুরাতন মাল বিক্রি করছি। ৫ লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। আর এটার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আমার কাছে এক লিটার ও দুই লিটারের বোতল আছে। এটাতো এখন থেকে সংকট না। যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই এ অবস্থা। মূলত মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করেছে। আমাদের কাছে তথ্য নিয়ে লাভ হবে না। মিলারদের কাছে কি পরিমাণ আছে সেটা যদি সরকার নিতে পারে এবং তাদের প্রেসার দিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে পারে তাহলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

ধূপখোলা বাজারের আদর ষ্টোরের শহিদুল্লাহ বলেন, আগের মতো কোম্পানিগুলো থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যেটুকু আসে সেটাও খুব সীমিত। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছি না। আজকে আমার কাছে ৫ লিটারের কোনো তেলের বোতল নেই। আগামী সপ্তাহ থেকে ঠিক হয়ে যাবে বলে ডিলাররা বলেছে। সে আশায় বসে আছি। নিয়মিত যারা দোকান থেকে মাল নিচ্ছে তাদেরকে জোড় করে ক্যানোলার ৫ লিটারের তেল দিচ্ছি। তারাও নিরুপায় হয়ে নিচ্ছে। তবে বাজারে দাম কিন্তু বাড়েনি। বোতলের গায়ে যে দাম সে দামেই বিক্রি করছি।

শ্যাম বাজারের মাহি ষ্টোরের ম্যানেজার মো. মানিক বলেন, দুই লিটার ও এক লিটারের বোতল পাচ্ছি। ৫ লিটারের বোতল নেই বললেই চলে। ডিলারদের কাছে থাকলে দেয়, না থাকলে দেয় না। রূপচাঁদা, তীর, ফ্রেস ডিলারদের কাছে মাল নেই। গত এত সপ্তাহ ধরে এ সমস্যাটা তৈরি হচ্ছে। আমাদের কাছে না এসে পাইকারি ও মিলারদের কাছে যান। খোলা তেল ২০৫ টাকা কেজি। পাম ১৭০ টাকা কেজি। আর দুই লিটার বোতলের সয়াবিন তেল ৩৯০ টাকা, এক লিটার ১৯৫ টাকায় বিক্রি করছি।

রায়সাহেব বাজারের মহাদেব স্টোরের বাবুল রায় বাংলানিজকে বলেন, দোকানে কোনো সয়াবিন তেল নেই, ক্যানোলা ফুল থেকে তৈরি যে তেল সেটা আছে। এই তেলের দাম বেশি, চাহিদা কম। এখন বাধ্য হয়ে অনেকেই এই তেল নিচ্ছে। যেহেতু সয়াবিন তেল নাই৷ আমরাতো বেশ কয়েকদিন ধরে সয়াবিন তেল পাচ্ছি না।

নয়াবাজারের বাবুল ষ্টোর ম্যানেজার মো. জসিম বলেন, আমরা তো সয়াবিনের বোতলই পাচ্ছি না। ডিলারের কাছে ফোন দিলে বলে মাল নাই। সিটি, রুপচাঁদা কোম্পানি মাল দেয় না। তবে খোলা সয়াবিন তেল আছে। যেটা ২০৫ টাকা করে বিক্রি করছি। যে সব ক্রেতা মাসের বাজার করেন তারা মাসের শুরুতে এসে ৫ লিটারের বোতল নিতে চায়। কিন্তু আমরা দিতে পারি নাই। এখন তাদেরকে ক্যানোলা ফুলের তেল দিচ্ছি। যদিও দাম বেশি। মোটামুটি বাধ্য হয়েই তারা এ তেল নিচ্ছে। যাও দুই একটা পাচ্ছি সেটা গায়ের রেটে বিক্রি করছি। আগে গায়ের রেট থেকে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে বিক্রি করতাম। কি করবো চাহিদা বেশি সরবরাহ নাই।

একই বাজারের মেসার্স মনোয়ার ষ্টোরের মো. মনেয়ার বলেন, রুপচাঁদা, তীর রোজার আগের থেকেই তেল দিচ্ছে না। তাদের নাকি উৎপাদন নেই। কোম্পানি ডিলারদের কাছেও মাল নেই। তবে টাকা হলে মাল ঠিকই পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে দাম বেশি ধরে মেমোতে কম দেখায়। এ কারণেই বাজারে সরবরাহ কমেছে। বেশি দামে কিনি বেশি দামে বিক্রি করি।

নয়াবাজারে সয়াবিন তেল কিনতে আসা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন পরপরই বাজারে তেলের সংকট দেখা দেয়। দেখন আমি গত চার দিন ঘুরে আজকে ৫ লিটারের বোতল পেয়েছি। এক লিটার ও দুই লিটার পাওয়া যায়। সেটা নিলে আমার আবার খরচ বেড়ে যায়। সীমিত আয়ের মানুষ তাই সব দিকে চিন্তা করে অনেক হিসেব নিকেশ করে বাজার করতে হয়। যদি এভাবে কিছু দিন চলে তাহলেতো আমাদের চলা দায় হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এই সংকট তৈরি করা হয়েছে। ইরান- ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাব এতো তাড়াতাড়ি পড়ার কথা নয়। তারপরও সিন্ডিকেট করে মজুদ করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। সরকারের উচিৎ মনিটরিং জোরদার করা। সেটা খুচরা বাজারের আগে মিলার পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে। কারণ শুরুটা হয় সেখান থেকেই।

সূত্রাপুর বাজারের ক্রেতা মো. তুষার মোল্লা বলেন, আমরা এমন একটা জাতি উন্নত দেশগুলোর সব কিছু নিতে পারি। কিন্তু তাদের বাজার ব্যবস্থা ও নীতি নৈতিকতার বিষয়ে উদাসীন থাকি। রামজান মাসে উন্নত দেশগুলো কি করে সে বিষয়ে যদি শিক্ষা নিতে পারতাম তাহলে আজকে আমাদের এ দিন দেখতে হতো না। রমজান এলেই জিনিস পত্রের সংকট তৈরি হয়ে যায় কেন? মাঝে মাঝেই তেল পাওয়া যায় না। আবার পাওয়া গেলেও দাম বেশি থাকে। এতে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল দেখেই এটা হয়েছে। তাই সরকারকে দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। জরিমানা করে কোনো লাভ হয় না। অপরাধীদের জেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে দেশে ভোজ্যতেলের বাজারে দেখা দেওয়া সংকটের পেছনে আমদানি সংকোচন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দেশের ভোজ্যতেল বাজার আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব দ্রুত পড়ে। কেবল ভোজ্যতেল নয়, সামগ্রিকভাবে প্রয়োজনীয় আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহের চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব মূল্যস্ফীতিতেও পড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় বিকল্প উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে দেশ এক ধরনের ‘ইমপোর্ট কম্প্রেশন’ বা আমদানি সংকোচনের অবস্থার মধ্যে রয়েছে। ফলে যে পরিমাণ আমদানি হওয়া প্রয়োজন, বাস্তবে তা হচ্ছে না। এটা শুধু ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেই নয়। শিল্পপণ্য বা ক্যাপিটাল গুডস যেগুলো নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করতে আমদানি করা হয়। সে সবের আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০২২ সালে আমরা যতটা আমদানি করেছিলাম, এরপর তিন-চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেই পর্যায়ে আর পৌঁছাতে পারিনি।

ড. রাজ্জাকের মতে, দেশে মূল্যস্ফীতির চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হলো সরবরাহ ঘাটতি। স্থানীয় উৎস থেকে পর্যাপ্ত উৎপাদন না হওয়ায় আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বেশি, কিন্তু রিজার্ভের ওপর চাপ থাকায় আমদানিও সহজ হচ্ছে না। যদি স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো না যায়, তাহলে আমদানির দরজা খোলা রাখতে হবে। পর্যাপ্ত আমদানি হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম বাড়ার প্রবণতা কমে আসবে। কিন্তু বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুর্বল থাকায় আমদানির ক্ষেত্রেও নানা শর্ত তৈরি হয়েছে।

প্রায় তিন বছর ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসাকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা মূলত সাপ্লাই সাইডের সমস্যা। সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া এর টেকসই সমাধান নেই। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো সংঘাত বা যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলে আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়। সেই প্রত্যাশা থেকেই অনেক সময় বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।

বর্তমানে বাজারে অনেক জায়গায় ভোজ্যতেল আগের দামে বিক্রি হলেও সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ড. রাজ্জাক বলেন, বাজারে পণ্য না পাওয়া অনেক সময় দাম বাড়ার পূর্বাভাস হতে পারে। সংকট তৈরি হওয়ার পরই সাধারণত দাম বাড়ে। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশঙ্কায় পণ্য মজুত রেখে পরে বিক্রির চেষ্টা করেন। বিশেষ করে রমজান বা ঈদের সময় বাজারে মূল্য না বাড়ানোর এক ধরনের সামাজিক বা নৈতিক চাপ থাকায় সাময়িকভাবে দাম স্থির থাকতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তথ্য প্রকাশের ওপর জোর দিয়ে ড. রাজ্জাক বলেন, সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে বাজারে যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে এবং কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। এতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—উভয়ের মধ্যেই আস্থা তৈরি হবে। যদি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়, তাহলে এক পর্যায়ে দাম বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ মালিক সমিতির সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ তেল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মওলা বলেন, আমাদের কাছে গত বছরের তুলনায় আমাদের কাছে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি পণ্য মজুত রয়েছে। আমরা যে হিসাব করেছি তাতে পণ্যের কোনো ঘাটতি কথা না। কেউ যদি কৃত্রিমভাবে সরবরাহ কমিয়ে ভোক্তাদের কষ্ট দেয়, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। আইনকে যদি হাতের আঙুলের মতো সহজে বাঁকানো যায়, তাহলে তো বড় সমস্যা তৈরি হবে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। রমজান মাসে এ ধরনের আচরণ অনৈতিক। যদি কোনো পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে পণ্য সরবরাহ না করে ভোক্তাদের কষ্ট দেয়, তাহলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মিল মালিকদের কোনো সমস্যা থাকলে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু সেই অজুহাতে বারবার ভোক্তাদের কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়। গত রমজানে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ ভালোভাবেই ব্যবসা হয়েছে। আমরা চাই এবারও রমজানে বাজারে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকুক। বাজারে যেন কোনো ঘাটতি না হয় এবং ভোক্তারা স্বাভাবিকভাবে পণ্য কিনতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বাজারে ভোজ্যতেলের কথিত সংকটকে মূলত কৃত্রিম বলে মনে করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে তথ্য দেওয়া হচ্ছে তাতে দেশের চাহিদা অনুযায়ী ভোজ্যতেলের সরবরাহ থাকার কথা। অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট থাকার কথা নয়। বাজারে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে এবং রিফাইনারি কোম্পানিগুলোর কাছেও মজুদ আছে। তাই সরবরাহের ঘাটতি হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বিএসটিআই এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজারে নজরদারি বাড়ালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাজারে প্রতিদিন যে ছয় সাতটি রিফাইনারি কোম্পানি তেল সরবরাহ করে, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যেই কোথাও সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি বাজার তদারকি দুর্বল থাকার সুযোগেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই পরিস্থিতি তৈরি করছে। তাই কেবল জরিমানা নয়, কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দুই-একজনকে উদাহরণ হিসেবে কঠোর শাস্তি দিলে এই অনিয়ম বন্ধ হবে। শুধু ৫, ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে লাভ নেই। প্রয়োজন হলে বড় অঙ্কের জরিমানা, এমনকি ব্যবসা লাইসেন্স বাতিল করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আমদানিকারক ও রিফাইনারি মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না। আতঙ্কিত হয়ে বেশি বেশি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। বাজারে যেহেতু পণ্য আছে, তাই অযথা প্রতিযোগিতা করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার তদারকি করছে এবং জেলা প্রশাসনও নিয়মিত অভিযান চালাবে। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে ভোজ্যতেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তাদের তদারকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত দাম নেওয়া বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : বাংলানিউজ

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Rithe Rose serves as a Sub Editor at the iNews Desk, supporting daily news operations with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial consistency. In this role, Rithe edits and refines news copy, verifies facts, sharpens headlines, and ensures stories align with newsroom standards and ethical guidelines. With a keen eye for detail and deadlines, Rithe collaborates closely with reporters and editors to maintain quality control across breaking and developing stories, helping deliver timely and reliable news to readers.