ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ বেঁচে আছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর আগে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় স্বামীর সঙ্গে তিনিও নিহত হয়েছেন।

ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানায়, বাগেরজাদেহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। আগের যে খবরগুলোতে তার মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো সঠিক ছিল না।
এর আগে ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, হামলায় পাওয়া আঘাতের কারণে তিনি মারা গেছেন। এমনকি ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছিল, তিনি কোমায় আছেন।
পরে ফার্স নিউজ জানায়, প্রাথমিক আহত হওয়ার খবর ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার কারণেই মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছিল।
বৃহস্পতিবার বাগেরজাদেহ’র মৃত্যু নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠে। কারণ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো উল্লেখ করেননি।
প্রসঙ্গত, মাশহাদে একটি শিয়া পরিবারে জন্ম নেওয়া মানসুরেহ বাগেরজাদেহ ১৯৬৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আলী খামেনিকে বিয়ে করেন। তাদের ছয়টি সন্তান রয়েছে। রাজনৈতিক সংগ্রামের কঠিন সময়,কারাবাস ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে স্ত্রীর সমর্থনের কথা অতীতে বহুবার উল্লেখ করেছিলেন খামেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সি আলী খামেনি তেহরানে তার বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত বিমান হামলায় নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। এরপর ইরান প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
বাবার মৃত্যুর পর দেওয়া প্রথম লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আপনার চলে যাওয়া মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে… অনেকেই আপনার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারেনি।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিনি আরও জানান, বিমান হামলার পর তিনি নিজ চোখে বাবার মরদেহ দেখেছেন। তার ভাষায়, তখন তার বাবার হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল, যা তিনি শেষ মুহূর্তের প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


