মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দায়িত্বকাল শেষে তারা কোনো ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন না। বরং কোন পথে এগোচ্ছেন, সেটি মূল্যায়ন করলে স্পষ্ট হবে—এই খাতে অগ্রগতি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে শেষ কর্মদিবসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাছ ও মাংসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, দামের ঊর্ধ্বগতি মানেই ব্যর্থতা নয়। তার ভাষায়, “আমাদের দায়িত্ব দামের নিয়ন্ত্রণ নয়। আমাদের কাজ উৎপাদন ও আহরণ নিশ্চিত করা এবং সেটিকে নিরাপদ রাখা।” তিনি বলেন, বাজারে দামের ওপর একাধিক বাহ্যিক বিষয় প্রভাব ফেলে, যা মন্ত্রণালয়ের ম্যান্ডেটের মধ্যে পড়ে না। তাই দামের দায় তারা নিচ্ছেন না।
গরুর মাংসের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য ছিল। খামারিদের ব্যয়ের বড় অংশ—প্রায় ৭০ শতাংশ—প্রাণী খাদ্যে চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ব্যয় কমানোর দিকেই মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তবে মাত্র ১৫ বা ১৬ মাসে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল উৎপাদনকে নিরাপদ করা। সে জায়গায় আমরা সফল হয়েছি। ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেখলে বোঝা যাবে, আমরা সঠিক পথেই এগিয়েছি।”
সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা আখতার বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সত্ত্বেও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত দীর্ঘদিন ধরে ‘কৃষির উপখাত’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় নীতিনির্ধারণ ও পরিকল্পনায় অবহেলার শিকার হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ রেয়াত, সহজ ঋণ ও প্রণোদনার মতো কৃষি খাতের অনেক সুবিধা থেকে মৎস্য চাষি ও খামারিরা বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি জানান, এ সমস্যা নিরসনে প্রধান উপদেষ্টা, পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বিবেচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে উপখাত নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ খাত হিসেবে মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তার মতে, এতে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বাড়বে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং এই খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নত হবে। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি হয়ে জাতীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সাগরে মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


