আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের পর মার্কিন ডলারের মূল্যপতন ঘটেছে, পাশাপাশি ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্ববাজারে ধাক্কা: ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণা
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে ধাক্কা লেগেছে। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ড ও সোনায় বিনিয়োগ শুরু করেছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা করেছেন যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির উপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের উপর উচ্চতর শুল্ক আরোপ করবেন।
বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব: মার্কিন ডলার ও অন্যান্য মুদ্রার পতন
নতুন শুল্ক আরোপের ফলে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্র হয়ে উঠেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এই পরিস্থিতি একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধ সৃষ্টি করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং জ্বালানি মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে।
বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩ এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বেড়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, নিউজিল্যান্ড ডলার, জাপানের ইয়েন এবং সুইস ফ্রাঙ্কও মার্কিন ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রভাব ও মার্কিন ডলারের দুর্বলতা
ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণা মার্কিন ডলারের জন্য একটি বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান অনিশ্চয়তা খুবই উচ্চ এবং এই নতুন শুল্কগুলো কিছুদিনের মধ্যে সংশোধিত হতে পারে, তবে এটি অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।”
১৯৩০ সালের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন এবং বর্তমান পরিস্থিতি
১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়ে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করে এবং মহামন্দাকে আরও তীব্র করে তোলে।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের তালিকায় উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার নাম কেন নেই
ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন বলেন, “ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করার একটি পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। এই স্তরের শুল্কের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের সাথে বেশিরভাগ সম্পর্ক ছিন্ন করে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।