বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং মার্কিন শুল্ক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন।

বুধবার(২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ৬টা ৩৪ মিনিটে স্পট সোনার দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার এপ্রিল ডেলিভারির জন্য ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ১৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা বাইবিট-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক হ্যান তান জানিয়েছেন, মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান এবং মার্কিন বাণিজ্য নীতি নিয়ে অস্পষ্টতা সোনাকে ৫ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমার ওপরে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে।
তিনি মনে করেন, যতদিন এই মৌলিক কারণগুলো বিদ্যমান থাকবে, ততদিন বিনিয়োগকারীরা সোনার দামকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী হবেন। সাধারণত অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা বিশ্বব্যাপী বহুগুণ বেড়ে যায়।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে জানিয়েছেন, প্রায় সব দেশ ও প্রতিষ্ঠান ওয়াশিংটনের সাথে আগের শুল্ক ও বিনিয়োগ চুক্তিগুলো বজায় রাখতে চায়। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র গত মঙ্গলবার থেকে ১০ শতাংশ বিশ্বব্যাপী আমদানি শুল্ক সংগ্রহ শুরু করলেও এটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষে কাজ করছে। এই শুল্ক যুদ্ধের আশঙ্কা বিশ্ববাজারে এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি করেছে, যা পরোক্ষভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজারকে চাঙ্গা করছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সোনার দাম বৃদ্ধিতে আগুনের মতো কাজ করছে। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরানি প্রতিনিধিদলের সাথে তৃতীয় দফার পরমাণু আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন।
এরই মধ্যে রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে। ইরান চীনের কাছ থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কেনার চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে। এই মিসাইলগুলো ইরানি উপকূলের কাছে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সামরিক উত্তেজনার খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। স্পট সিলভার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯০ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এছাড়া স্পট প্ল্যাটিনামের দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২৮৫ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ৪ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। প্যালাডিয়ামের দামও ২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


