পোর্টালটি ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও ব্যবহার করতে পারবেন। এর বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি ব্যবহার করলে মনে হবে ব্যবহারকারীর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রেই।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটে ব্লকড বা নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটগুলো দেখার সুযোগ করে দিতে নতুন পোর্টাল তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা ও তথ্যের ওপর সরকারি বিধিনিষেধ ভাঙতেই এ বিতর্কিত ও সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ‘ফ্রিডম ডটগভ’ নামের বিশেষ এ অনলাইন পোর্টালটি ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেটে নিষিদ্ধ কনটেন্ট দেখার সুযোগ করে দেবে, যার মধ্যে ঘৃণা ছড়ানো বা সন্ত্রাসী প্রচারণার অভিযোগে বিভিন্ন দেশ বন্ধ করেছে এমন ওয়েবসাইটও থাকতে পারে।
পোর্টালটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নয়, বরং ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও ব্যবহার করতে পারবেন। যেসব দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা নানা কারণে নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ করে রেখেছে সেখানকার ব্যবহারকারীরাও এ পোর্টালের মাধ্যমে সেই বাধা টপকাতে পারবেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, এ উদ্যোগটিকে ‘মুক্ত চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ সমর্থনে শক্তিশালী এক হাতিয়ার হিসেবে দেখছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তাদের লক্ষ্য হল, ইন্টারনেটে তথ্যের ওপর আরোপ করা সেন্সরশিপ বা বিধিনিষেধ ঠেকানো।
এ পোর্টালটির বিশেষত্ব হচ্ছে, এ সাইট ব্যবহার করলে মনে হবে ব্যবহারকারী খোদ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া, ব্রাউজিংয়ের সময় ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কোনো তথ্য ট্র্যাক বা রেকর্ড হয় না।
বর্তমানে ওয়েবসাইটটির প্রাথমিক এক সংস্করণ চালু হয়েছে, যেখানে বড় এক ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘তথ্যই শক্তি। আপনার মতপ্রকাশের যে মানবাধিকার রয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করুন। প্রস্তুত হোন।’
নিজেদের নীতিমালায় ‘বাকস্বাধীনতা’কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাম্প সরকার। ইউরোপের মতো বিভিন্ন দেশের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে সরকারি বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রায়ই বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা তথ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার এমন সময়ে এ পদক্ষেপ নিল যখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক এমনিতেই উত্তপ্ত। ফলে এ নতুন পোর্টালটি অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটাতে পারে।
ইহুদিবিদ্বেষ ও চরমপন্থী প্রচারণা ছড়ায় এমন বিভিন্ন ওয়েবসাইটকে নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ। এ ক্ষেত্রে ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ ও যুক্তরাজ্যের ‘অনলাইন সেইফটি অ্যাক্ট’-এর মতো কঠোর আইন ব্যবহার করছে সংস্থাটি।
এসব আইনের অধীনে ফেইসবুক ও এক্স-এর মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুত অবৈধ বা ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য সরিয়ে ফেলতে বাধ্য থাকে।
পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৪ সালে সন্ত্রাসবাদ উসকে দেওয়ার অভিযোগে ৪৮২টি কনটেন্ট সরানোর আদেশ জারি করেছিল জার্মানি।
পাশাপাশি বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারীকে দিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৭৭১টি কনটেন্ট ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে বাধ্য করেছে দেশটি।
২০২৪ সালে পোল্যান্ডের রাজনৈতিক এক দলের পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটার ওভারসাইট বোর্ড।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ওই পোস্টে জাতিগত বিদ্বেষমূলক শব্দের ব্যবহার এবং অভিবাসীদের ‘ধর্ষক’ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনে অধীনে ‘বেআইনিভাবে ঘৃণা ছড়ানোর’ বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


