বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যৌথভাবেসংস্থাটি থেকে দেশটির সদস্যপদ ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

সদস্যপদ থেকে প্রত্যাহারের এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগদানের পর এই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য হিসেবে থাকল না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে, ২০২০ সালেই, সংস্থাটি থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
যৌথ বিবৃতিতে রুবিও এবং কেনেডি মূলত কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্যর্থতাকে প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তারা আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট অর্থসংকট মোকাবিলায় সংস্থাটি ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রমে আর অংশগ্রহণ করছে না’, তবে কিছু ‘আইনি বিষয় এখনও নিষ্পত্তি করা বাকি থাকতে পারে’।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্র আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাজে পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণকারী হোক, যেমনটি আমরা প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রেই চাই।
গত বছরের ২০ জানুয়ারি শপথ নেয়ার পরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হল জাতিসংঘের এক বিশেষ অঙ্গ সংস্থা। এটি ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য কাজ করে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা প্রাথমিকভাবে ৯০টি জাতি রাষ্ট্রের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র পদত্যাগ করায় বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৯৩টি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৮ সালে ডব্লিউএইচও প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর একটি মূল অংশ ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মোট তহবিলের ১৮ শতাংশ যোগান দেয় ওয়াশিংটন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


