উত্তর আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ রেফারি জো ডিকারসন আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে এবার ভিন্ন ভূমিকায় দেখা যাবেন। মাঠে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব ছেড়ে তিনি এবার দায়িত্ব পালন করবেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) বুথে।

সান জোসের আঞ্চলিক ম্যাচ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা ডিকারসন ২০২৫ সালে এসে মার্কিন সকারে বর্ষসেরা পুরুষ রেফারির স্বীকৃতি অর্জন করেন। সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণের দক্ষতার কারণেই তিনি এবার বিশ্বকাপের ভিএআর প্যানেলে জায়গা পেয়েছেন।
তবে প্রযুক্তিনির্ভর রেফারিং তার ব্যক্তিগতভাবে খুব পছন্দ নয় বলে জানিয়েছেন এই রেফারি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভিএআর মনিটরের সামনে যেতে তার ভালো লাগে না, কারণ সেটি সাধারণত মাঠে কোনো ভুল হয়ে গেলে তবেই প্রয়োজন হয়। তারপরও সময়ের সঙ্গে তিনি এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন।
ডিকারসন মনে করেন, রেফারিংয়ের অনেক সিদ্ধান্তই অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল, যা সাধারণ চোখে ধরা কঠিন। তাই অনেক ক্ষেত্রেই মাঠের রেফারিদের দোষ দেওয়া ন্যায্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মাঠের বাইরেও রয়েছে তার ভিন্ন পরিচয়। তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন এবং ইতালীয় দার্শনিক নিকোলো মাকিয়াভেলির রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে গবেষণা করছেন। তার মতে, মাকিয়াভেলির বাস্তববাদী দর্শনের মধ্যেও নেতৃত্ব ও সহানুভূতির গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে, যা ফুটবল রেফারিংয়েও প্রযোজ্য।
বিশ্ব ফুটবলে ভিএআর প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ইউরোপীয় ফুটবলে এর অতিরিক্ত নির্ভুল ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তবে ডিকারসন মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে রেফারিদের সিদ্ধান্তের চাপ ও গুরুত্ব অনেক বেশি, যেখানে ভিএআর গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ম্যাচ চলাকালে জটিল সিদ্ধান্ত নিতে ভিএআর বুথে প্রধান রেফারির পাশাপাশি সহকারী কর্মকর্তারাও থাকবেন, যাতে সিদ্ধান্ত আরও নির্ভুল হয়। যদিও ভিন্ন মত ও বিতর্ক থাকবেই, তবে ফুটবলের আবেগ এবং প্রযুক্তির এই টানাপোড়েনই খেলাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে বলে মনে করেন ডিকারসন।
**সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান**
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



