আজ রোববার (৩১ মে) রাতের আকাশে দেখা যেতে পারে বিরল ‘ব্লু মুন’। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এই বিরল দৃশ্য সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নাসার মতে, ব্লু মুন একটি তুলনামূলক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আজ ৩১ মে এই ঘটনাটি পুনরায় দেখার সুযোগ এসেছে।
ব্লু মুন কী?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ‘ব্লু মুন’ কোনো নীল রঙের চাঁদ নয়। সাধারণত একই ইংরেজি ক্যালেন্ডার মাসে দুটি পূর্ণিমা সংঘটিত হলে দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে ‘ব্লু মুন’ বলা হয়। চাঁদের আবর্তনকাল প্রায় ২৯.৫ দিন হওয়ায় প্রতি দুই থেকে তিন বছর (কিংবা ১৯ বছরে ৭ বার) অন্তর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
চাঁদ কি আসলেই নীল দেখাবে?
নাম ‘ব্লু মুন’ হলেও চাঁদ কিন্তু তার স্বাভাবিক রুপালি-সাদা বা সোনালি আভা নিয়েই উদিত হবে। ১৫০০ শতকের দিকে ‘চাঁদ নীল’ – এই প্রবাদটি মূলত কোনো অসম্ভব ঘটনা বোঝাতে ব্যবহৃত হতো, যা থেকে পরবর্তীতে এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক নামকরণের উৎপত্তি। তবে ইতিহাসে ব্যতিক্রমও রয়েছে। ১৮৮৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানুষ সাময়িকভাবে নীল রঙের চাঁদ দেখেছিল।
একই সাথে বছরের সবচেয়ে দূরের ‘মাইক্রো মুন’
এবারের ব্লু মুনের আরেকটি বড় বিশেষত্ব হলো, এটি একই সঙ্গে একটি ‘মাইক্রো মুন’। চাঁদ যখন তার কক্ষপথে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরের অবস্থান অর্থাৎ ‘অ্যাপোজি’র কাছাকাছি থাকে এবং সে সময়ে পূর্ণিমা ঘটে, তখন তাকে মাইক্রো মুন বলা হয়।
আজকের পূর্ণিমায় চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৯৩ কিলোমিটার (২,৫২,৩৩৪ মাইল) দূরে অবস্থান করছে, যা এর গড় দূরত্বের (৩,৮৪,৪০০ কিলোমিটার) চেয়ে অনেক বেশি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটিই হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের সবচেয়ে দূরবর্তী পূর্ণিমা। পৃথিবী থেকে দূরত্ব বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক পূর্ণিমার তুলনায় চাঁদকে আকারে প্রায় ১০% ছোট দেখাবে, যদিও খালি চোখে সাধারণ দর্শকের কাছে এই পার্থক্য খুব একটা দৃশ্যমান নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার কারণে উদয়ের সময় দিগন্তের কাছাকাছি চাঁদকে প্রথমে কমলা বা সোনালি আভাযুক্ত দেখা যেতে পারে। তবে চাঁদ যত আকাশের ওপরে উঠবে, এটি তার স্বাভাবিক উজ্জ্বল সাদা রূপ ধারণ করবে।
বাংলাদেশ থেকে যেভাবে দেখবেন
আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে ৩০ মে রাতে চাঁদটি সবচেয়ে পূর্ণ দেখা গেলেও, বাংলাদেশসহ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের আকাশে আজ ৩১ মে রাতে চাঁদকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও পূর্ণ অবস্থায় দেখা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মহাজাগতিক ঘটনাটি দেখার জন্য কোনো বিশেষ টেলিস্কোপ বা চশমার প্রয়োজন নেই; খালি চোখেই এটি সম্পূর্ণ নিরাপদে দেখা যাবে। বিশেষ করে চাঁদ যখন দিগন্তের কাছাকাছি থাকবে (সন্ধ্যা ৫:৩০ থেকে ৬:৩০ এর মধ্যে), তখন বায়ুমণ্ডলীয় স্তরের কারণে এটিকে চমৎকার কমলা বা সোনালি আভায় দেখা যাবে, যা মোবাইল ফোনে ছবি তোলার জন্য দারুণ একটি সময়।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
উল্লেখ্য, আজকের পর ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আর কোনো ব্লু মুন দেখার সুযোগ মিলবে না। এজন্য আজ রাতের আকাশের এই বিরল মহাজাগতিক যুগলবন্দী (ব্লু মুন ও মাইক্রো মুন) দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



