বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী কায়দায় একটি রাজনৈতিক দল অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের বিষয়ে সতর্ক করেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি, ২০২৫ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিএনপি নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানায়।
তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ বিএনপিই বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে। সুতরাং আমাদের বড় লক্ষ্য হলো— নির্বাচন যেন বিতর্কমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ থাকে এবং নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যেন কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে। এটি যেমন বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপরও শেরপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। কীভাবে ঘটনাটি শুরু হলো, কারা এতে মদদ দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারল না— এসব বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মাহদী আমিন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নির্বাচনী সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও উত্তরা সফরে বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করেছে তারেক রহমানই আজ দেশের মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলের শীর্ষ নেতারা নতুন করে বিএনপিকে ‘দুর্নীতির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। অথচ আন্তর্জাতিক সূচকে বিএনপি সরকারের সময় দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
মাহদী আমিন বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময় দুর্নীতির স্কোর ছিল ০ দশমিক ৪, যা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের প্রতিফলন। বিএনপির জিরো টলারেন্স নীতির কারণে ২০০৬ সালে সেই স্কোর বেড়ে ২-এ উন্নীত হয়।
তিনি আরও বলেন, যেই দলটি তখন সরকারের অংশ ছিল এবং যাদের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা আজ নির্বাচন সামনে রেখে দ্বিচারিতার রাজনীতি করছে। পাশাপাশি তারা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার, কোরআনের শপথ, জান্নাতের প্রলোভন ও টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাম্প্রতিক মিছিল ও বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইতিবাচক রাজনীতি চাই, দোষারোপের রাজনীতি নয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


