দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। এবছর এই সম্মাননা পাচ্ছেন ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি ব্যান্ড।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম একুশে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। চলচ্চিত্র ও সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য এবছর একুশে পদক পাচ্ছেন দেশের খ্যাতিমান অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা এবং কিংবদন্তি ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু।
বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ববিতা ১৯৫৩ সালে বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। রুপালি পর্দায় তার অনন্য উপস্থিতি ও সাবলীল অভিনয় কয়েক প্রজন্মের দর্শককে মুগ্ধ করেছে। চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয় ‘শেষ পর্যন্ত’ সিনেমার মাধ্যমে। জন্মসূত্রে তার নাম ফরিদা আক্তার পপি হলেও চলচ্চিত্রাঙ্গনে তিনি পরিচিত হন ববিতা নামে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘অশনিসংকেত’, ‘অনঙ্গ বউ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘লাইলি-মজনু’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দহন’ ও ‘দিপু নাম্বার টু’। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি। পরে ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননাও প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ গায়ক ও গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু মৃত্যুর সাত বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক ২০২৬ পাচ্ছেন। তিনি ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় কয়েক দশক ধরে সংগীতাঙ্গনে তার প্রভাব ছিল অসামান্য, যা আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে অনুরণিত হয়।
চার দশকের সংগীতজীবনে তিনি ১২টি ব্যান্ড অ্যালবাম, ১৬টি একক অ্যালবামসহ বহু মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশ করেন। তার গানের কথা, সুর ও সংগীতায়োজন শ্রোতাদের সহজেই আবেগে নাড়া দিত। চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এই কৃতী শিল্পী ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে সংগীতজীবন শুরু করে এক বছর পর ব্যান্ড সংগীতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮০ সালে সোলস ব্যান্ডে যোগ দিয়ে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দলটির সঙ্গে কাজ করেন। পরে ১৯৯১ সালে গড়ে তোলেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড (এলআরবি)’—যার সঙ্গেই তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন।
তার প্রথম গান ছিল ‘হারানো বিকেলের গল্প’ এবং প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। তবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা আসে দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’-এর মাধ্যমে। ‘ফেরারি মন’, ‘হাসতে দেখো’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘সুখেরই পৃথিবী’সহ অসংখ্য গান বাংলা সংগীতকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদানের জন্য ববিতা ও আইয়ুব বাচ্চুর একুশে পদক প্রাপ্তি তাদের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনেরই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


