তিনি স্মরণ করেন, কীভাবে সেই সময়ে তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। জাহ্নবী জানান, মায়ের মৃত্যুর পর তাঁকে রাতারাতি বড় হয়ে উঠতে হয়েছিল।

২০১৮ সালে শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যুর সময় জাহ্নবী কাপুরের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। তখনও বলিউডে তাঁর অভিষেক হয়নি। সেই শোকাবহ ঘটনাটি অনেক পুরনো হলেও, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী স্বীকার করেছেন- মাকে হারানোর সেই গভীর মানসিক আঘাত তিনি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
রাজ শামানির ইউটিউব চ্যানেলে এক আলাপচারিতায় জাহ্নবী বলেন, “আমি প্রায়ই আমার ভেতরের অস্থিরতা থেকে পালাতে চাই। কিছু অনুভূতি আছে, যেগুলোর সঙ্গে এখনও মানিয়ে নিতে পারিনি। সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল মাকে হারানো- বিশেষ করে যেভাবে তাঁকে হারিয়েছি, সবার সামনে সেই কঠিন সময়টা সামলানো খুব কঠিন ছিল।”
তিনি স্মরণ করেন, কীভাবে সেই সময়ে তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। জাহ্নবী জানান, মায়ের মৃত্যুর পর তাঁকে রাতারাতি বড় হয়ে উঠতে হয়েছিল। “আমি খুব নির্ভরশীল ছিলাম। কী পরব, কী ভাবব, কোনটা ঠিক- সবকিছুতেই মায়ের ওপর নির্ভর করতাম। কিন্তু হঠাৎ করে সব সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়, যখন চারপাশের পৃথিবী তোমাকে নিয়ে বিচার করছে।”
এই কঠিন সময়ে কিছু ভুল সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন জাহ্নবী। তিনি স্বীকার করেন, “আমি এমন কিছু মানুষকে জীবনে ঢুকতে দিয়েছিলাম, যাদের সেখানে থাকার অধিকার ছিল না। আমি নিজের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তার দিকেও যথেষ্ট খেয়াল রাখিনি।” মাকে হারানোর শোকের পাশাপাশি তিনি আরও একটি বড় পরিবর্তনের কথা বলেন। “আমি শুধু একজন অভিভাবককে হারাইনি, সেদিন বাবাকেও একভাবে হারিয়েছিলাম, তাঁর সেই রূপটাকে, যা মা থাকাকালীন ছিল,” আবেগঘন কণ্ঠে বলেন জাহ্নবী।
শ্রীদেবীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “মা-র মতো আর কেউ হয় না। তাঁর প্রাণবন্ত স্বভাব, আমাদের গড়ে তোলার ধরণ- সবকিছু আমি খুব মিস করি।” তবে আজ যদি মায়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতেন, কী হতো- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “হয়তো তিনি আমাকে চিনতেই পারতেন না। আমি অনেক বদলে গেছি, আমার নিজস্ব মতামত তৈরি হয়েছে।”
জাহ্নবী আরও জানান, এখন তিনি তাঁর মাকে অনেক ভালোভাবে বোঝেন। “ছোটবেলায় তাঁর জীবনসংগ্রামকে আমি বুঝতে পারিনি। তিনি চার বছর বয়স থেকে কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু কখনও কষ্টের গল্প শোনাননি- শুধু সুখের দিকটাই দেখাতেন।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শ্রীদেবীকে নিয়ে অতীতে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। “মানুষ তাঁকে ‘ঘরভাঙা’ বলত, যা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস প্রয়াত মানুষদের প্রতি অনেকটাই সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে,”- বলেছেন জাহ্নবী।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


