ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ‘খেলনা’ বলে সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ মন্তব্য দুই মিত্র দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও টানাপোড়েনে ফেলেছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সামরিক ভূমিকা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের দুটি রণতরী—এইচএমএস কুইন এলিজাবেথ ও এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস—কে ট্রাম্প ‘খেলনার মতো’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এসব জাহাজের তেমন কোনো প্রয়োজন নেই এবং এগুলোকে ‘সেরা বিমানবাহী রণতরী’ বলা যায় না।
এর আগেও ট্রাম্প ব্রিটিশ সেনাবাহিনী নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনারা সরাসরি সম্মুখযুদ্ধ থেকে কিছুটা দূরে ছিল—যা তখন তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের রণতরীগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯২০ ফুট এবং ওজন ৬৫ হাজার টন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জেরাল্ড আর ফোর্ড শ্রেণির রণতরীগুলো প্রায় ১১০০ ফুট দীর্ঘ এবং ওজন প্রায় ১ লাখ টন—যা তুলনামূলকভাবে অনেক বড় ও শক্তিশালী।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও যুক্তরাজ্য এখনও তাদের রণতরী সেখানে পাঠায়নি। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্য রণতরী পাঠানোর কথা বললেও এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক ছোট ও অপ্রয়োজনীয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানে বি-২ বোমারু বিমান অবতরণের অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তার মতে, এটি ছিল একটি বড় ভুল।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভালো মানুষ হলেও তার সিদ্ধান্ত হতাশাজনক। পরে অবশ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ওই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
ট্রাম্প ন্যাটো জোটের অন্যান্য মিত্রদেরও সমালোচনা করে বলেন, তারা যুদ্ধের শুরুতে সহায়তা করেনি, বরং সংঘাত প্রায় শেষ হওয়ার পর সহযোগিতার আগ্রহ দেখাচ্ছে। তার মতে, এটি সঠিক সময় নয়।
এদিকে যুক্তরাজ্য বর্তমানে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ যুক্ত রয়েছে। এই প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ, যেখানে বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে মতপার্থক্য ও কূটনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের মিত্র সম্পর্ককে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


