নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার দুই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মশুরীখোলা দরবার শরীফ-এর প্রতিষ্ঠাতা বাংলা ত্রয়োদশ শতাব্দীর মহান সংস্কারক হযরত কেবলা শাহ মুহাম্মদ আহসানুল্লাহ (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত ১৫৬তম বাৎসরিক ওরশ মোবারকে সভাপতির বক্তব্যে বর্তমান গদ্দিনেসীন পীর সাহেব হাফেজ মাওলানা মুফতি সাইফুজ্জামান (মাদ্দা জিল্লুহুল আলী) রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অতিমুনাফা প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, রমজান সমগ্র বিশ্বের মুসলিম ব্যবসায়ীদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাহেন্দ্রক্ষণ। এ মাসে অনেক দেশেই ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য হ্রাস করে এবং মুনাফা কমিয়ে রোজাদারদের সহায়তা করেন। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যায়, রোজার প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে মাহে রমজান অনেক ব্যবসায়ীর জন্য অতিমুনাফা অর্জনের মাসে পরিণত হয়—যা ইসলামের নৈতিকতা ও ন্যায়নীতির পরিপন্থী।
পীর সাহেব আরও বলেন, কেবল সতর্কবার্তা দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ অপরিহার্য। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট ভাঙা নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি। কারণ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত; তাই জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা তাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে জনগণকেও বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, হালালপন্থা ও ইনসাফের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনাই প্রকৃত সফলতার পথ। ইসলামি ঐতিহ্যে ন্যায়নিষ্ঠ ব্যবসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। হযরত কেবলা নিজেও একজন আদর্শ ব্যবসায়ী ছিলেন; তিনি নীতি ও ন্যায়পরায়ণতার মানদণ্ডে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অন্যের প্রতি জুলুম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দ্বীনি খেদমত করা বড় ধরনের প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। এ বিষয়ে প্রত্যেক মসজিদ থেকে সচেতনতামূলক বয়ান সমাজ পরিবর্তনের কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মশুরীখোলার হযরত কেবলা শাহ মুহাম্মদ আহসানুল্লাহ (রহ.) শরিয়তের অনুসরণ ও তরিকতের দীক্ষার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি এবং মানবতার খেদমতের আদর্শ স্থাপন করেছেন। তাঁর দেখানো পথে তাঁর নাতি হযরত শাহ মুহাম্মদ আহসানুজ্জামান (রহ.) নিষ্ঠার সঙ্গে খেদমতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। চার প্রজন্ম ধরে চলমান এ খেদমতের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—ইনশাআল্লাহ।
বর্তমান গদ্দিনেসীন পীর সাহেব নতুন সরকারের প্রতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে হযরত শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.) কমপ্লেক্সের সভাপতি হযরত শাহ মুহাম্মদ মোহসেনুজ্জামান, দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ড. সৈয়দ শাহ এমরান, চট্টগ্রাম বেতাগি আস্তানা শরীফের পীর সাহেব মাওলানা গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি আবু জাফর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা আবুল বাশার, প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, শাহ মুহাম্মদ মোজাম্মেলসহ দরবারের প্রতিনিধিবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
ওরশ মোবারক উপলক্ষে দিনব্যাপী খতমে কুরআন, জিকির-আযকার, কুরআন-হাদিসভিত্তিক আলোচনা, মিলাদ ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনার মাধ্যমে ১৫৬তম ওরশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


