দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের একটি ‘নিরপেক্ষ’ তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তালিকা প্রণয়ন শেষে এতে অন্তর্ভুক্ত সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘আনবায়াসড’ বা পক্ষপাতহীন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তালিকায় যারাই থাকবেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক পরিচয় থাকা ব্যক্তিরা তালিকায় থাকলে কী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালিকা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হবে এবং কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব রাখা হবে না। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালিকা প্রণয়নের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে না জানালেও তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে। প্রয়োজনে তা তাৎক্ষণিকভাবেও শুরু হতে পারে।
র্যাব জানায়, চাঁদাবাজি বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। বিশেষ করে পরিবহন খাতে মহাসড়কভিত্তিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি—সব ধরনের অপরাধকেই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, অনেক ভুক্তভোগী ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করতে চান না। সেক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কল্যাণপুরে একটি হাসপাতালের উদ্যোক্তার কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গেছে এবং তদন্ত চলছে। পাশাপাশি র্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক একটি বড় ইয়াবা চালান আটকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে আটক ব্যক্তিরা সাধারণত নিম্নস্তরের সদস্য। তবে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কোনো চাপ রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র্যাব বর্তমানে স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং কোনো ধরনের বেআইনি চাপ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়; অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


