চীনের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ৫ টন ওজনের বৈদ্যুতিক উল্লম্ব উড্ডয়ন ও অবতরণ সক্ষম উড়োজাহাজের সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় সফল হওয়া সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক উল্লম্ব উড্ডয়ন–অবতরণ সক্ষম ড্রোনধর্মী উড়োজাহাজ।

উড়োজাহাজটি নির্মাণ করেছে ফেংফেই এভিয়েশন। প্রতিষ্ঠানটির জানানো তথ্য অনুযায়ী, তাদের তৈরি ভি–৫০০০ মডেলের এই উড়োজাহাজ পরীক্ষার সময় প্রথমে উল্লম্বভাবে আকাশে উঠে। পরে এটি স্থির ডানার উড়োজাহাজের মতো কিছু দূরত্ব উড়ে এবং শেষ পর্যায়ে আবার উল্লম্ব পদ্ধতিতে নিরাপদে অবতরণ করে।
উল্লম্ব উড্ডয়ন ও অবতরণ প্রযুক্তির উড়োজাহাজগুলো অনেকটা হেলিকপ্টারের মতো কাজ করে। ফলে এগুলো হেলিপ্যাড বা ছোট জায়গা থেকেও ওঠানামা করতে পারে এবং প্রচলিত উড়োজাহাজের মতো দীর্ঘ রানওয়ের প্রয়োজন হয় না।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি চীনের জিয়াংসু প্রদেশের কুনশান মানববিহীন উড়োজাহাজ পরীক্ষাকেন্দ্রে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়। ফেংফেই এভিয়েশন প্রায়ই এই স্থানে জনসমক্ষে প্রদর্শনী ও সংবাদমাধ্যমের জন্য উড্ডয়ন পরীক্ষা চালিয়ে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভি–৫০০০ উড়োজাহাজটির একাধিক সংস্করণ রয়েছে। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সংস্করণটি একবার চার্জে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। অন্যদিকে হাইব্রিড শক্তিচালিত সংস্করণটি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।
এই উড়োজাহাজটি যাত্রী পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের জন্য আলাদা সংস্করণে তৈরি করা হয়েছে। যাত্রীবাহী সংস্করণটির নাম “স্কাই ড্রাগন”, যা সর্বোচ্চ ১০ জন যাত্রী বহন করতে পারে। একই উড়োজাহাজের পণ্যবাহী সংস্করণ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড অটোফ্লাইট, যার নাম ভি–৫০০০ ম্যাট্রিক্স। এটি প্রায় ৯০৭ কেজি বা প্রায় এক টন পণ্য বহন করতে পারে।
উড়োজাহাজটির নকশায় রয়েছে প্রায় ২০ মিটার প্রশস্ত যৌগিক ডানা, যা তিন স্তরের বায়ুগতিগত বিন্যাসে তৈরি। এতে মোট ২০টি লিফট মোটর ব্যবহৃত হয়েছে। এতগুলো মোটর ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো—কিছু মোটর অচল হয়ে গেলেও উড়োজাহাজটি যেন নিরাপদে উড্ডয়ন চালিয়ে যেতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক উড়ন্ত ট্যাক্সি সেবা চালুর লক্ষ্যে এ ধরনের উড়োজাহাজ উন্নয়নে কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে জোবি এভিয়েশন দুবাইয়ে উড়ন্ত ট্যাক্সি পরিচালনার জন্য ছয় বছরের একচেটিয়া চুক্তি করেছে। একইভাবে চীনের ইহাং তৈরি করেছে চালকবিহীন ইএইচ–২১৬–এস উড়োজাহাজ, যা চীনে নিম্ন আকাশপথে পর্যটন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে।
তবে এ ধরনের অধিকাংশ বড় ড্রোনজাতীয় উড়োজাহাজ সাধারণত চার থেকে ছয়জন যাত্রী বহন করতে পারে এবং ভি–৫০০০-এর তুলনায় অনেক হালকা। সেগুলো মূলত স্বল্প দূরত্বের শহুরে যাতায়াতের জন্য তৈরি। কিন্তু ভি–৫০০০ দেখিয়েছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বের আঞ্চলিক পরিবহনও সম্ভব হতে পারে।
কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বড় বিমান সংস্থার সহায়তাও পাচ্ছে। যেমন জোবি এভিয়েশনকে সমর্থন দিচ্ছে ডেল্টা এয়ারলাইনস এবং আর্চারকে সহায়তা করছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। এর ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে।
তবে ভি–৫০০০ স্কাই ড্রাগন বা ম্যাট্রিক্স উড়োজাহাজের পরীক্ষার পর কবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক অনুমোদন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে ফেংফেই এভিয়েশনের আরেকটি ছোট উড়োজাহাজ ভি–২০০০সিজি ইতোমধ্যে চীনে উড়োজাহাজ নিরাপত্তা ও মান যাচাই সংক্রান্ত সনদ অর্জন করেছে।
উল্লেখ্য, ফেংফেই এভিয়েশন এবং তাদের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড অটোফ্লাইট চীনের শীর্ষ ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কনটেম্পোরারি অ্যামপেরেক্স টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড থেকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পেয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বিনিয়োগের পরিমাণ কয়েকশ মিলিয়ন ডলার।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


