চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত বিপ্লবী বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। একই সঙ্গে বিউগলে বাজানো হয় শ্রদ্ধার করুণ সুর। আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। পাশাপাশি চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে।
এর আগে ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে নিজের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোস-২০২৬ সম্মেলনে অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান। সেখানে দুই দিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছান।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
একই দিনে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এছাড়া চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
চীন সফরের সময় বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সফর শেষে শুক্রবার বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



