বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : টেসলা নিয়ে গত বছর পর্যন্ত আকাশেই উড়ছিলেন ইলন মাস্ক। কিন্তু বছরের প্রথম কোয়ার্টারে (প্রান্তিকে) এসেই ছন্দপতন হলো বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে টেসলার বিক্রি হ্রাস পেয়েছে ১৩ শতাংশ। গতকাল বুধবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটির।
জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে টেসলা প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটা ১৩ শতাংশ কম এবং গত তিন বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো কোয়ার্টারে এটাই টেসলার সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স।
টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্কের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের নেতিবাচক প্রভাবেই টেসলার বিক্রি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে নবঠিত সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাস্ক।
সরকারি দক্ষতা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) এর প্রধান হিসেবে মাস্কের মূল দায়িত্ব হচ্ছে সরকারি ব্যয় কমাতে সহায়তা করা। কাজটি এখনও পর্যন্ত ভালোভাবেই করে আসছেন তিনি।
কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, এটি করতে গিয়ে বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁকে। সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে চাকরি হারিয়েছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি অর্থায়ন বন্ধেও মাস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
টেসলা অবশ্য বলছে, তাঁদের সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেলটির নতুন ভার্সন বাজারে আসতে চলেছে। তাই গ্রাহকদের অনেকেই আসন্ন নতুন ভার্সনটি বাজারে আসার অপেক্ষায় আছে। ফলে সার্বিকভাবে বিক্রি পড়েগেছে।
এদিকে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি’র সাথে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তবে টেসলার বিক্রি হ্রাস পাওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে ব্যক্তি মাস্কের বিভিন্ন বিতর্কে জড়ানোকেই বড় করে দেখছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে।
ট্রাম্প সরকারে ব্যক্তি মাস্কের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে সৃষ্ট জনরোষের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে টেসলার ব্র্যান্ড ইমেজে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেকেই এই টেসলার গাড়ি বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবাদস্বরুপ টেসলার গাড়ি বিক্রি করেও দেওয়ারও খবর উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমগুলোতে।
গারবার কাওয়াসাকি ওয়েলথ এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ কর্তা রস গারবার টেসলার একজন বিনিয়োগকারী। সম্প্রতি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘এই ব্র্যান্ডটি (টেসলা) ভেঙে গেছে এবং সম্ভবত এটি আর ঠিক করা যাবে না।’
টেসলার জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার জন্য মাস্ককে দায়ী করে করেছেন তিনি। এক সময়ের মাস্ক সমর্থক রস এখন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে মাস্কের অপসারণ চাইছেন।
মাস্কের বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ ও টেসলার পণ্য বয়কট করতে দেখা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে গতকাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো তাঁদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, মাস্ক হয়তো অচিরেই সরকারি দক্ষতা বিভাগ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে মাস্ক বা ডিওজিই বিভাগের তরফ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।