বিশ্বজুড়ে জমা পড়া ৭ হাজার ৮০৬টি ছোটগল্প থেকে বাছাই করে ২৫ জন লেখকের শর্টলিস্ট প্রকাশ করা হয়েছে ‘কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রাইজ ২০২৬’-এ। এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই উদীয়মান লেখক—আনমানা মনিশিতা ও শাজেদ উল হক আবির।

আনমানা মনিশিতা বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত এবং ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডে সম্পাদকীয় সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগ থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার নির্বাচিত গল্প ‘অ্যা ম্যাসকুলিন ফেস্ট’-এর পটভূমি ১৯৫০-এর দশকের পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)। এতে এক তরুণ বাঙালি মুসলিম নারীর জীবনে নারীত্বের জটিল বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে শাজেদ উল হক আবির একজন কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং ইতোমধ্যে ১১টি বই প্রকাশ করেছেন। তিনি ‘কালি ও কলম-তরুণ গল্পকার’ পুরস্কারও অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার শর্টলিস্ট হওয়া গল্পের নাম ‘মফিজের রিলেশনে স্পার্ক নাই’, যা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অরুনাবা সিনহা ও শবনম নাদিয়া। গল্পটিতে দরিদ্র মফিজের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন, সম্পর্কের ভাঙন এবং জীবনের সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এই বছরের শর্টলিস্টে মোট ১৪টি কমনওয়েলথভুক্ত দেশের লেখকরা জায়গা পেয়েছেন, যা প্রতিযোগিতাটিকে বৈশ্বিক ও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। পাঁচটি অঞ্চল—আফ্রিকা, এশিয়া, ক্যারিবীয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং কানাডা-ইউরোপ—থেকে লেখক নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী এই ২৫ জনের মধ্য থেকে পরে পাঁচজন আঞ্চলিক বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। এবারের তালিকার একটি বিশেষ দিক হলো, প্রথমবারের মতো মাল্টা থেকে একজন লেখক শর্টলিস্টে জায়গা পেয়েছেন এবং বাংলা ও মালয় ভাষার গল্পও এতে স্থান পেয়েছে। অধিকাংশ লেখকই প্রথমবারের মতো এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন, যা নতুন প্রতিভার উত্থানকে নির্দেশ করে।
কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রাইজের বিচারক প্যানেল সাধারণত একজন চেয়ারপারসনসহ পাঁচটি অঞ্চলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। তারা হাজারো গল্প থেকে বাছাই করে লংলিস্ট, শর্টলিস্ট এবং শেষে বিজয়ী নির্ধারণ করেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


