কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দগ্ধ দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদ্য নির্মিত এন আলম ফিলিং স্টেশন-এ এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে পাম্প থেকে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল, যা আশপাশে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই পাম্প এলাকা থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ছয়জনকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, এলাকাবাসীকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নেভাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাতটি ইউনিট কাজ করছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হচ্ছে এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর কলাতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। শহরের অন্যতম প্রবেশপথ হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পাশাপাশি আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হলেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুরো এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


