চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রশাসনকে ‘জামায়াতপন্থী’ আখ্যা দিয়ে নজিরবিহীন নিয়োগ জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উপ-উপাচার্যের কন্যাসহ সব বিতর্কিত ও অবৈধ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানায়। পাশাপাশি ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা নিয়োগ বোর্ড পরিচালনা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। এছাড়া বিভাগীয় সভাপতিদের আপত্তি ও পরিকল্পনা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রকাশিত সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের দাবি জানায় সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন। সহস্রাধিক ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সেই জুলাই অভ্যুত্থানের পবিত্র চেতনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বর্তমান জামায়াতপন্থি প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ বাণিজ্যের মহোৎসবে লিপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের বেশ কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে ছাত্রদল বলেছে, প্রকৃত কোনো চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ মাসে সেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও ৩০৪টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া তড়িঘড়ি করে সচল রাখা হয়েছে। গত দেড় বছরে মোট ৫৫৪ জনের এই বিশাল নিয়োগপ্রক্রিয়া মূলত একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দল ভারি করার নগ্ন মহোৎসব ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বিশাল নিয়োগ অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের দৃষ্টান্ত হলো সহ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহীরা শামীমকে ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া।
এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের অনিয়ম শুধু একটি বিভাগেই সীমাবদ্ধ নয়। ফিন্যান্স বিভাগের জামায়াতপন শিক্ষক বেগম ইসমত আরা হক তার ছেলে হাসান মোহাম্মদ রাফিকে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগে নিয়োগ নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ মাসে ২৫০ নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলা বিভাগের সভাপতি আনোয়ার সাঈদ লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তার বিভাগে শিক্ষকের কোনো প্রয়োজন নেই— তবুও সেখানে জোরপূর্বক সাতটি পদের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসেন জানান, পরিকল্পনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই তার বিভাগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ওই বিভাগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনজন প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করলেও প্রশাসন তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। এছাড়া চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জামায়াতপন্থি রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের ভাই আবদুল কাইউম।
ছাত্রদল জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থি প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ জালিয়াতি তাদের ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের দুঃশাসন অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্র বা অন্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ পেলে তারা দেশকে চরম স্বজনপ্রীতির দিকে ঠেলে দেবে বলেও অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের বিপরীতে শিবির-প্রভাবিত চাকসু ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলোর নীরবতাকে নিয়োগ বাণিজ্যের নেপথ্য সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জামায়াতপন্থি প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড ও ছাত্র সংসদের নীরবতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি এবং পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে নতুনরূপে পুনঃস্থাপনের অপচেষ্টা। এ ধরনের সাম্প্রদায়িক দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলেও সতর্ক করা হয়। এ অবস্থায় নব্য ফ্যাসিবাদ ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


