চুল পড়া এখন আর শুধুই বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। স্ট্রেস, দূষণ এবং অনিয়মিত জীবনযাপনও এই সমস্যার কারণ হতে পারে। বাজারে নানান দামি শ্যাম্পু ও সিরামের ভিড়ে অনেকেই ঘরোয়া সমাধানের দিকে ফিরে যাচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম হলো পেঁয়াজের রস। বলা হয়, এটি চুল দ্রুত লম্বা করতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। কিন্তু এর পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সমর্থন আছে? টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনের আলোকে দেখে নেওয়া যাক পেঁয়াজ চুলের জন্য কতটা কার্যকর।

কেন পেঁয়াজ চুলের জন্য উপকারী?
পেঁয়াজে থাকে সালফার, যা চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সালফার কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, ফলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং নতুন চুল গজাতে সহায়ক হয়। এছাড়া পেঁয়াজে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোটিন ও কেরাটিন তৈরিতে সাহায্য করে। কেরাটিনই চুলের মূল গঠন উপাদান।
পেঁয়াজে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মাথার ত্বককে সংক্রমণ ও খুশকি থেকে রক্ষা করে। সুস্থ স্ক্যাল্প মানেই চুলের ফলিকল শক্তিশালী ও চুলের বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উপকারিতা
পেঁয়াজে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড জাতীয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে বাঁচায়। ফ্রি র্যাডিক্যাল অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করে, যা চুল অকালপক্বভাবে সাদা হওয়ার অন্যতম কারণ। নিয়মিত ব্যবহার চুলের ফলিকলকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
এছাড়া পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকে লাগালে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, ফলে চুলের ফলিকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং চুলের বৃদ্ধির প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়।
-পেঁয়াজের রস ব্যবহার করার নিয়ম
-কয়েকটি পেঁয়াজ খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ডারে পেস্ট করুন
-ছাঁকনির সাহায্যে রস আলাদা করুন
-সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সামান্য পানি মিশাতে পারেন
-গন্ধ কমাতে চাইলে ২–৩ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার বা রোজমেরি অয়েল যোগ করুন
-মাথার ত্বকে ৫–৭ মিনিট আলতো করে ম্যাসাজ করুন
-অন্তত ৩০ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি ও মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
-সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। রস তৈরি করে ফ্রিজে সংরক্ষণও সম্ভব
পেঁয়াজের রস কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, তবে এর পুষ্টি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় বাস্তব ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে চুল পড়া কমানো, স্ক্যাল্প সুস্থ রাখা এবং চুলের বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
তবে অতিরিক্ত চুল পড়া বা হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ঘরোয়া যত্নের সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনই হতে পারে সুন্দর, ঘন এবং সুস্থ চুলের আসল চাবিকাঠি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


