সাইফুল ইসলাম : বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানীর মালিকানাধীন মানিকগঞ্জের চাপওয়ালা’র শ্বশুরবাড়ি রেস্টুরেন্টে এক কাস্টমারকে কুপিয়ে জখমসহ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আতিকুর রহমান খানের চাচা মো. খলিলুল রহমান খান বাদল বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
শুক্রবার রাত আটটার দিকে সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ এলাকায় অবস্থিত চাপওয়ালা’র শ্বশুরবাড়ি রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় উল্লেখিত আসামিরা হলেন— মো. ইমরান (২৪), মো. লিখন (২২), হাসান (২৭), জীবন (২৫), মুন্না (২২) ও মঞ্জুর (২৬)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. আতিকুর রহমান খান আরও ৪-৫ জন বন্ধুকে নিয়ে অরঙ্গবাদ এলাকার ওই রেস্টুরেন্টে খেতে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, কয়েকজন মহিলা কাস্টমারের সঙ্গে আসামিরা দুর্ব্যবহার ও অনৈতিক আচরণ করছে। এ ঘটনায় আতিকুর রহমান ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে আসামিদের কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরি, কুড়াল, বেলচা ও বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আতিকুর রহমান ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে।
পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে ভুক্তভোগীরা প্রাণভয়ে দৌড়ে মূল সড়কের দিকে চলে যান। এসময় আসামি মো. ইমরান তাদের ধাওয়া করে ধারালো ছুরি দিয়ে আতিকুর রহমানের পিঠে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। এরপর আসামি লিখন লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করলে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। অন্য আসামিরাও তাকে ও তার বন্ধুদের মারধর করে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আতিকুর রহমানের পকেটে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর আশপাশের ব্যবসায়ীরা আহতদের রক্তাক্ত ও গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আতিকুর রহমানকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার বাদী মো. খলিলুল রহমান খান বাদল বলেন, চিত্রনায়ক ওমর সানীর রেস্টুরেন্টে একদল সন্ত্রাসীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তারা মহিলা কাস্টমারদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছিল। আমার ভাতিজা ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করায় তারা ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি।
রেস্টুরেন্টটির ম্যানেজার কিরণ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না এবং বিষয়টি তার জানা নেই।
চিত্রনায়ক ওমর সানী এ বিষয়ে বলেন, তার রেস্টুরেন্টে জনবল সংকট থাকায় কয়েক দিনের জন্য লিখন নামের একজনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তার স্বভাব-চরিত্র নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে যাদের সুপারিশে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয় যেন ওই ব্যক্তি কোনো ধরনের ঝামেলায় জড়াতে না পারে।
তিনি দাবি করেন, লিখন মাদকাসক্ত ও অসদাচরণকারী হওয়ায় এ ধরনের অপকর্ম ঘটিয়েছে। তবে একজন কাস্টমারের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হলো— সেটি তার কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান বলেও জানান।
ঘটনার পর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর সানী বলেন, ঘটনার সময় তিনি নিজেই পুলিশ ও সেনাসদস্যদের ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লিখনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেছেন। ব্যস্ততার কারণে এখনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল আলোচনা করবেন।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, ঘটনার পর মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


