কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার সৈকতে প্রায় দেড় টন ওজনের একটি মৃত তিমি পড়ে রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ভেসে আসা তিমিটি বালুচরে পুঁতে রাখা হলেও জোয়ারের পানিতে বালু সরে যাওয়ায় এর কিছু অংশ আবার দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। পচে যাওয়া তিমি থেকে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতে আসা দর্শনার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, অতীতে কুতুবদিয়ার উপকূলে এত বড় মৃত তিমি ভেসে আসার ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি। তিমিটি আঘাতে নাকি বিষক্রিয়ায় মারা গেছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল পর্যন্ত বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম জানান, গত শনিবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের পশ্চিম সৈকতে মৃত তিমিটি ভেসে আসে। এ সময় কৌতূহলী মানুষ তিমিটি দেখতে ভিড় করেন এবং অনেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরদিন রবিবার রাতে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে বালুচরে গর্ত খুঁড়ে তিমিটি পুঁতে রাখা হয়। তিমিটির ওজন অন্তত দেড় টন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, “জোয়ারের তীব্রতায় বালু সরে যাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে তিমিটির কিছু অংশ আবার দেখা যায়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আরো বড় অংশ ভেসে ওঠে। পচন ধরায় পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সম্প্রতি কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে রয়েছেন। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় এখানে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বন বিভাগের স্থায়ী কোনো কর্মকর্তা নেই।
উপকূলীয় বন বিভাগের কয়েকজন কর্মী প্যারাবন রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও মৃত তিমির বিষয়ে এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, “কুতুবদিয়া সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে আসার খবর পাওয়া গেছে। কী কারণে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নেই। তবে তিমিটি বালুচরে পুঁতে ফেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
কুতুবদিয়া উপজেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, “তিমিটি থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের কারণে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দ্রুত তিমিটিকে গভীরভাবে পুঁতে ফেলা না হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


