ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, “আজকে যারা ‘দাঁড়িপাল্লা’কে ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে প্রচার করছে, তারা মূলত স্বার্থান্বেষী মহল। তারা বলে দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক, ন্যায় প্রদর্শক। কিন্তু আমরা বাস্তবতা দেখছি—দাঁড়িপাল্লার পাল্লা দুটো হয়ে গেছে। এক পাশ গোপনে আমেরিকার পক্ষে, অন্য পাশ গোপনে ভারতের পক্ষে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের প্রয়োজন আমেরিকার ইনসাফ নয়, ভারতের ইনসাফ নয়। আমরা চাই ইসলামের আদর্শের অনুসারে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হোক।”
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভা-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলনের বাউফল উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আবদুল মালেক আনোয়ারী।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, “মানুষ চাইছিল জুলুম ও নির্যাতনমুক্ত, সোনালী একটি দেশ। কিন্তু ক্ষমতালিপ্সু স্বার্থান্বেষী মহলের নীলনকশার কারণে সেই আশা পূর্ণ হয়নি। প্রচলিত আইন আর ব্যবস্থাপনায় দেশকে নতুন দিক দেখানো সম্ভব হয়নি।”
তিনি বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান উল্লেখ করে বলেন, “এই দলগুলো কখনো বলেছে আমরা ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করব না। তারা বলে প্রচলিত ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব। কিন্তু আমরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—বিজয়ী হলে আমরা ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করব।”
চরমোনাই পীর আরও অভিযোগ করেন, “প্রচলিত আইন এবং প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে দেশটি বারবার দুর্নীতির শীর্ষে গেছে। বহু মায়ের সন্তান নিখোঁজ হয়েছে, হাজারো মানুষ কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”
এ সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে এক ভোট পড়লেই ইসলামের পক্ষে একটি শক্তি বৃদ্ধি পায়।” তাই নতুন ভোটারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা নাসির আহমেদ কাউসার, হাবিবুর রহমান মিসবাহ, পটুয়াখালী জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হাওলাদার মো. সেলিম মিয়া, বাউফল উপজেলার সদস্য সচিব আলহাজ আবুল হোসেন হাওলাদার, মাওলানা নুরুল আমিন প্রমুখ। এর আগে পটুয়াখালী শহরের শহীদ আলাউদ্দিন শিশু পার্কে আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেন চরমোনাই পীর।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


