দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। শুক্রবার (৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিজার্ভ

Advertisement

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৭ মে) পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আইএমএফের মানদণ্ড অনুযায়ী বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের স্থিতিশীলতা এবং আমদানি ব্যয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসায় রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। এর ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে এবং ডলারের বাজারেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রধান উৎস হলো প্রবাসী আয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানি আয়েও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বৈদেশিক ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তার অর্থ ছাড়ও রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অতিরিক্ত ডলার বিক্রির প্রয়োজনও কমে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ বৃদ্ধির অর্থ হলো দেশের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা শক্তিশালী হওয়া। বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।

রিজার্ভ শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যায়। এতে বৈদেশিক লেনদেনে আস্থা বাড়ে এবং দেশের ঋণযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাও উন্নত হয়।

এছাড়া রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হলে ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ ডলারের দাম বৃদ্ধি পেলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং ডলারের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে পরবর্তীতে রিজার্ভ কমতে থাকে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে ডলার বিক্রি করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে। পাশাপাশি আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে এসব পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

গ্রস ও বিপিএম-৬ রিজার্ভের পার্থক্য

বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করে। গ্রস রিজার্ভ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট বৈদেশিক মুদ্রা ও সম্পদের সমষ্টি, যেখানে বিভিন্ন তহবিল ও স্বল্পমেয়াদি দায়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

অন্যদিকে বিপিএম-৬ পদ্ধতি হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ। এতে এমন অর্থ বাদ দেওয়া হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে বিপিএম-৬ হিসাবকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোকে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.