একসময় টলিউডের অন্দরে দেব-শুভশ্রীর প্রেমকাহিনি ছিল চর্চার শীর্ষে। অনস্ক্রিন রসায়ন যে বাস্তবেও গভীর সম্পর্কে গড়িয়েছিল, তা প্রায় সবারই জানা। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমীকরণ বদলেছে। শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এখন পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর জীবনসঙ্গী, দুই সন্তানের মা।

তবু সম্প্রতি রাজ চক্রবর্তীর একটি মন্তব্য ফের উসকে দিল পুরনো সেই ‘দেশু’ অধ্যায়। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে স্ত্রীর অতীত সম্পর্ক নিয়ে রাজ যে পরিণত ও স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন, তা অনেককেই চমকে দিয়েছে।
কাকতালীয়ভাবে দেব-শুভশ্রী জুটির শুরুটাও হয়েছিল রাজ চক্রবর্তীর হাত ধরেই। সেই সময়ের সাক্ষী ছিলেন রাজ নিজেই।
অতীত স্মরণ করে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমারও মনে হয়েছিল, ওদের বিয়ে হলে বোধহয় ভালোই হতো।’
তবে সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সঙ্গে যোগ করেন, ‘কিন্তু শুভশ্রী তো আদতে আমার কপালেই ছিল। আর আমিও ওর কপালে ছিলাম—কিছু করার নেই।
আমরা খুব হ্যাপি। আর দেবের সঙ্গে যার বিয়ে হবে, সে-ও খুব হ্যাপি থাকবে। দেব খুব ভালো ছেলে।’
স্ত্রীর প্রাক্তন সম্পর্ক নিয়ে এমন সংযত ও স্পোর্টিং মন্তব্য খুব কম মানুষই করতে পারেন বলে মত টলিপাড়ার একাংশের। বিশেষ করে দীর্ঘ এক দশক পর ফের দেবের সঙ্গে কাজ করছেন শুভশ্রী— দেবের ৫১তম ছবির নায়িকা হিসেবে।
‘ধুমকেতু’-র সাফল্যের পর বাংলা ছবির স্বার্থে ফের প্রাক্তন প্রেমিকের বিপরীতে অভিনয় করতে কোনও দ্বিধা রাখেননি শুভশ্রী।
রবিবার দেব ও শুভশ্রী একসঙ্গে ফেসবুক লাইভে এসে অনুরাগীদের উদ্দেশেও আবেদন জানান। দেব বলেন, “দয়া করে এমন মন্তব্য করবেন না যাতে আমাদের মনে হয় আমাদের সঙ্গীকে অপমান করা হচ্ছে, অথচ আমরা কিছু করতে পারছি না। ‘দেশু ৭’-এর উন্মাদনার মাধ্যমে বাংলা ছবির অবস্থার একটু পরিবর্তনের চেষ্টা করছি— সেটা মাথায় রেখেই মন্তব্য করুন।”
শুভশ্রীও স্পষ্টভাবে জানান, “আমরা চাই, আমাদের যতটা সম্মান করা হচ্ছে, তার থেকেও বেশি সম্মান আমাদের সঙ্গীদের দেওয়া হোক।”
এক সময় দেব-শুভশ্রী মানেই ছিল বক্স অফিস সাফল্যের সমার্থক। পর্দার সেই জনপ্রিয় জুটি বাস্তবেও সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হলেও শেষমেশ বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে ওঠে। অনেক পরে শুভশ্রীর জীবনে আসেন রাজ চক্রবর্তী।
নিজের বক্তব্যে রাজ স্বীকার করেছেন, এক সময় তিনিও দেব-শুভশ্রী সম্পর্কের শুভকামনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের লেখনে শুভশ্রী হয়ে ওঠেন রাজ-ঘরনী। তাঁর কথায়, সবটাই নিয়তির খেলা।
রাজের এই পরিণত মন্তব্যে খুশি নেটিজেনরাও। অনেকের মতে, তিক্ততা ভুলে জীবনসঙ্গিনীর অতীতকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করাই প্রকৃত ভালোবাসার পরিচয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


