নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে শপথগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আবেদন করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। গত সপ্তাহের নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের পক্ষে তিনি এই আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বরাবর পাটওয়ারীর লেখা আবেদনটি তার পক্ষে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম। আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১ দফায় ১২টি কেন্দ্রের অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন।
আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, তার নেতাকর্মী, এজেন্ট ও পরিবারের সদস্যরা ভোট কারচুপি, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা, বাতিল করা ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করাসহ নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।
পাটওয়ারী আরও বলেন, ভোট কারচুপি ও অনিয়মের মাধ্যমে আমাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন তারা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি এই আবেদনের মাধ্যমে কারচুপি ও অনিয়মের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনছি এবং আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। এই আসনে ভোট পুনর্গণনার পর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা এবং এর আগ পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন বিরত রাখার আবেদন জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন মির্জা আব্বাস। আসনটিতে ধানের শীষের এই প্রার্থী মোট ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। আর পোস্টাল ভোটে আব্বাস পেয়েছেন ২৮১৪ ভোট এবং নাসীরুদ্দীন পেয়েছেন ২৫৫৫ ভোট।
এছাড়া এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেফায়েত উল্লা হাতপাখা মার্কায় ১ হাজার ৪৩৬ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের মেঘনা আলম ৬০৮ ভোট পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৪ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৪টি। বাতিল হয় ২ হাজার ৮১৭টি ভোট। বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭টি। এই আসনে পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৮ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ৬ হাজার ১২টি। বাতিল হয় ৩২০টি ভোট।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


