ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তরাঞ্চলে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, এক ব্যক্তি তার দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তিন কন্যাশিশুকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সময়পুর বাদলি এলাকায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুত্রসন্তান না হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই এই নৃশংসতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত নারী অনিতা (২৭)। তার তিন কন্যার বয়স ছিল ৩, ৪ ও ৫ বছর। বুধবার সকালে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের মরদেহ দেখতে পান। অভিযুক্ত স্বামী মুনচুন কেওয়াত ঘটনার পর থেকে পলাতক।
উত্তর দিল্লির আউটার নর্থ জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সকাল প্রায় ৮টার দিকে খবর পেয়ে সময়পুর বাদলি থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক কক্ষের ভেতরে চারজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে “অত্যন্ত নৃশংস” বলে উল্লেখ করেছেন। ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতে তাদের শ্বাসনালি কেটে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দম্পতি চন্দন বিহার এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। মুনচুন আজাদপুর মান্ডিতে সবজি বিক্রির কাজ করতেন। বুধবার ভোরে তার ১০ বছর বয়সী ভাতিজা প্রথম মরদেহগুলো দেখতে পায়। সে জানায়, বাইরের দরজা বন্ধ থাকলেও ভেতরে ঢুকে চারদিকে রক্তাক্ত দৃশ্য দেখতে পায়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্ত্রী ও সন্তানদের সম্ভবত নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতন করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রতিবেশীদের একজন দাবি করেছেন, ঘটনার আগের রাতে দম্পতির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভোরের দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ির আশপাশ দিয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছেন। পরে তার মোবাইল ফোন জাহাঙ্গীরপুরী এলাকায় বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যদিও প্রাথমিকভাবে কন্যাসন্তান জন্মকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত মুনচুন কেওয়াতের বাড়ি বিহারের পাটনা জেলায়। তিনি গত দুই বছর ধরে দিল্লিতে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


