রাজধানীতে ছিনতাই ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে পাঁচ আগস্টের পর রাজধানীর সড়কে দায়িত্ব পালন করা স্বেচ্ছাসেবীরা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বুধবার (২০ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেসে’ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডিএমপির নতুন কমিশনার এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, যে কেউ অপরাধের তথ্য দিলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। আর তথ্য পাওয়ার পর ব্যবস্থা নিতে অবহেলা করা হলে, সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিরুদ্ধেও ডিএমপি ব্যবস্থা নেবে।
থানায় কোনো দালাল থাকতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের কারণে থানায় সেবাবান্ধব পুলিশিং বাধাগ্রস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে অনেক সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ আগস্টের পর যেসব শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের পরিকল্পনা রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিং মল এবং আবাসিক এলাকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদ ঘিরে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জাল নোট প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশকে সর্বোচ্চ সক্রিয় করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নগদ টাকার লেনদেন কমিয়ে ব্যাংক লেনদেন করার জন্য সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বড়ো অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করতে হলে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য তিনি আহবান জানান।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সমাজের সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আপনার এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং বা যে কোনো অপরাধের তথ্য থাকলে অবিলম্বে পুলিশকে জানান, প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল করুন। আপনাদের একটি সঠিক তথ্য বড়ো কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা রুখে দিতে পারে।
ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা ট্রাফিক জ্যাম উল্লেখ করে নবনিযুক্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও সচল করতে নিত্যনতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি। আমরা এর মধ্যে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে প্রযুক্তিনির্ভর করেছি। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ই-প্রসিকিউশন চালু হয়েছে, যার ফলে সড়কে আইন মানার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সাইবার অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাইবার হ্যাকিং, সাইবার বুলিং, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণাসহ অনলাইনভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে ক্রমশ শক্তিশালী করা হচ্ছে। সম্প্রতি ডিএমপির সিটিটিসির অধীনে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে, যা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্তে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, একটি নিরাপদ, অপরাধমুক্ত এবং শান্তিময় রাজধানী গড়ে তোলার লক্ষে ডিএমপি অহর্নিশ কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে সাংবাদিক সমাজ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ভূমিকা পালন করছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম মূল অঙ্গীকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সম্প্রতি সমাপ্ত আমাদের পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর স্লোগান ‘আমার পুলিশ আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ আমাদের এই দর্শনকে প্রতিফলিত করে। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। পুলিশ, জনগণ ও গণমাধ্যম—আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে ঢাকাকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



