দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়-এর রাজনৈতিক দল অবশেষে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র থেকে রাজনীতিতে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে তার।

শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় টানা কয়েক দিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নাটকীয় পরিস্থিতির অবসান ঘটে। চেন্নাইয়ে বিজয়ের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের ‘টিভিকে, টিভিকে’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজয় তামিলনাড়ুর গভর্নর আর ভি আরলেকার-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারেন।
গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম অভিষেকেই বড় সাফল্য পায়। ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়ে দলটি দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজাগম ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজাগম-র শক্ত অবস্থানে বড় ধাক্কা দেয়।
তবে নির্বাচনে জয়ের পরও সরকার গঠনের পথে বাধা তৈরি হয়। গভর্নর স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হলে বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে না। সরকার গঠনের জন্য যেখানে ১১৮ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, সেখানে টিভিকের হাতে ছিল ১১৩ জন বিধায়ক।
পরে কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের সমর্থন পেলে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। একই সময়ে বিজয় আলোচনা শুরু করেন বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী) এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া-এর সঙ্গে।
শুক্রবার দুপুরের পর রাজনৈতিক মহলে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ভিসিকে ও বাম দলগুলো শেষ পর্যন্ত বিজয়ের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। এসব দলের সমর্থন মিলিয়ে প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা নিশ্চিত হয় বলে জানা যায়।
সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকারে জোটসঙ্গী দলগুলোর প্রত্যেককে একটি করে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেসও সমর্থনের বিনিময়ে দুটি মন্ত্রিত্ব প্রত্যাশা করছে।
গত কয়েক দিনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ছিল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য জোট নিয়ে। যদিও দুই দলই সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনের প্রবক্তা ইভি রামাসামি পেরিয়ার-এর আদর্শে বিশ্বাসী, বাস্তবে তারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের উত্থান তামিলনাড়ুর প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ডিএমকে-এআইএডিএমকের সম্ভাব্য জোট বাস্তব রূপ নেয়নি। দুই দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাই জানিয়েছেন, আদর্শগত বিরোধের কারণে এমন জোট দীর্ঘস্থায়ী হওয়া সম্ভব ছিল না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


