বাংলাদেশে এখন বসন্তকাল, কিন্তু ঢাকার আকাশে যেন বর্ষার আভাস। কয়েকদিন ধরেই আকাশ ঢেকে যাচ্ছে ধূসর মেঘে। ঈদের সময় যারা দূরের কোনো গন্তব্যে যাবেন। বাড়ি ফিরবেন বা ঘুরতে যাবেন, তাদের অনেকের জন্যই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আকাশের এই অবস্থা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে আজ শুক্রবার এবং আগামী বেশ কিছুদিন। আবহাওয়ার এই অবস্থা অব্যাহত থাকারও সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা এমন এক সময় এসেছে- যখন মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর দরজায় কড়া নাড়ছে।
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে এখন ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি। অনেকে ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায়। আবার অনেকে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে যাওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন।
যারা চাকরি, পড়াশোনা, ব্যাবসাসহ নানা কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকেন, তারা যেন এবার ঈদে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন- সেজন্য বাড়তি ছুটিও ঘোষণা করেছে সরকার।
শবে কদরের ছুটি ১৭ মার্চ। ঈদুল ফিতরের ছুটি ১৮ থেকে ২৩ মার্চ। সব মিলিয়ে এবার টানা সাত দিন সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংবাদপত্রও বন্ধ থাকবে ৫ দিন।
অনেকে আবার বাড়তি ছুটি নিয়ে নির্ধারিত তারিখের আগেই ঈদের ছুটি কাটাতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু, এ সময়ে যদি ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাহলে কেনাকাটা থেকে শুরু করে মানুষের ঈদযাত্রায়ও বিঘ্ন ঘটতে পারে। আবার অতিরিক্ত গরম পড়লেও ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
ঈদের আগে আগে বা ঈদের দিন বৃষ্টি হলে খোলা মাঠে ঈদের জামাত আয়োজনেও সমস্যা হতে পারে। তাই, যারা ঈদের জন্য দূরের পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি যাবেন, তারা আগেভাগেই জেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন যে আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া পরিস্থিতি আসলে কেমন থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে কেমন থাকবে আগামী কয়েকদিন
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মার্চের শেষ দিকে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে এক থেকে দুটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বসে যেতে পারে। এ সময় দেশে দুই থেকে তিন দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি ধরনের এবং এক থেকে দুই দিন তীব্র কালবৈশাখি ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্চ, এপ্রিল ও মে মাস হলো কালবৈশাখির উপযোগী সময়। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশে কালবৈশাখি ঝড় আঘাত হানেনি। তবে আগামী কয়েকদিনের মাঝে এটি বিক্ষিপ্তভাবে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক।
তিনি উল্লেখ করেন, তিন দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস সবচেয়ে ভালোভাবে বলা যায়। তবে পূর্বাভাস যত দীর্ঘমেয়াদি হয়, তার ‘অ্যাকুরেসি’ তত কমতে থাকে।
ঈদের দিন কি বৃষ্টি হবে?
ঈদের বাকি আছে আনুমানিক সাতদিন। আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখে আপাতত ধারণা করা যাচ্ছে, ইদের দিন দেশের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হবে। তবে তা ‘সাময়িক’, বলেন নাজমুল হক।
তিনি জানান, আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে আগামী ১৬ ও ১৭ মার্চ। অর্থাৎ, তখন বেশিরভাগ মানুষই ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ির পথে থাকবেন। সেক্ষেত্রে তখন বৃষ্টির কারণে তাদের ঈদযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানান, ‘১৬ ও ১৭ তারিখ বৃষ্টি হয়ে যাওয়ার পর বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে একটি সাময়িক বিরতি আসতে পারে। কিন্তু একাধারে বৃষ্টিহীন হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয়।’
তিনি বলেন, ‘এখন যেহেতু মার্চ মাস। তাই, দেশের বিভিন্ন জায়গায় অল্প সময়ের বৃষ্টি হবে। যেখানেই বৃষ্টি হবে, সেখানে এটি আধ ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার মাঝে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রপাত হতে পারে।’
তিনি জানান, একটানা বৃষ্টি কোথাও হবে না। কিন্তু কোথায় কোথায় সাময়িক বৃষ্টি হবে, তা এত আগে বলা মুশকিল। কারণ, প্রতিদিনই দৈনন্দিন পূর্বাভাসে কিছু না কিছু পরিবর্তন হয়।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানান, ঈদের এই সময়ে খুব বেশি বাতাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ৬০ বা ৭০ কিলোমিটার বেগে বাতাস হবে; এমনটা নয়। ৪০ বা ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস হতে পারে। সঙ্গে কোথাও বিজলি চমকাতে পারে, বজ্রপাতের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
গরম কেমন থাকবে
আবহাওয়া অফিস বলছে, আপাতত বা ঈদের সময়ে বেশি গরম থাকবে না। ২৮ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো তাপমাত্রা থাকতে পারে ঈদের সময়ে।
নাজমুল হক বলেন, এখনকার বৃষ্টি কেমন হবে তা বাতাসের ধরন ও লঘুচাপের ওপর নির্ভর করে। এখন বৃষ্টি হচ্ছে পশ্চিমা লঘুচাপের কারণ। পশ্চিমবঙ্গ-বিহার থেকে যদিও তাপীয় লঘুচাপ থাকে, আর সমুদ্রের ওপর দিয়ে যদি সেই বাতাস বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তখন এই দুইয়ের সংমিশ্রণে বৃষ্টি হয়। গত কয়েকদিনে বাংলাদেশে দক্ষিণমুখী বাতাস হচ্ছে, আর তাপীয় লঘুচাপও আছে, এর প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই অবস্থা আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে। কারণ, বাতাসের ধরণ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
এখনকার আবহাওয়া পরিস্থিতি
আজ শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, রোদের তেজ কম, বাইরে ঠান্ডা বাতাস। এদিন সকাল ৯টায় যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায়- দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে এখন মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে।
এতে আগামী পাঁচদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আজ ১৩ মার্চ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাসে ১৪ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত দেশের প্রায় সব বিভাগের কোথাও না কোথাও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহীর বদলগাছীতে, ৪৭ মিলিমিটার।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


