ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতি বছর দেশের পাইকারি মসলার বাজারে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে কোরবানির ঈদের আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারিতে মসলা কিনে নিয়ে যান। তবে এবার সেই চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা নেই। বরং গত কয়েক সপ্তাহে এলাচ, জিরা, লবঙ্গ, দারুচিনি ও জায়ফলসহ বেশির ভাগ মসলার দাম কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহ, সীমান্তপথে অবৈধভাবে মসলা প্রবেশ, মানুষের কমে যাওয়া ক্রয়ক্ষমতা এবং প্যাকেটজাত মসলার ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে ঈদের মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা পাচ্ছেন না তারা।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, গোলমরিচ, জিরা, জায়ফল ও শুকনা মরিচে বাজার ভরা থাকলেও অন্যান্য বছরের মতো ক্রেতাদের চাপ নেই। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে বিভিন্ন জেলা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসে ট্রাকভর্তি মসলা কিনে নিয়ে যেতেন। এবার সেই ভিড় অনেক কম। অনেক খুচরা ব্যবসায়ী শুধু বাজারদর দেখে ফিরে যাচ্ছেন।
গত দুই সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের গরম মসলার দাম কমেছে। মে মাসের শুরুতে যে এলাচ ৪ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন তা নেমেছে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ টাকায়। লবঙ্গের দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। ভারতীয় চিকন জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫২৫ থেকে ৫৩৫ টাকায়। তবে গোলমরিচের বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। বর্তমানে কালো গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৩০ টাকা কেজিতে, যা গত বছর ছিল প্রায় ৯৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভিয়েতনাম থেকে আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জিরা আমদানি হয়েছে ২ হাজার ৭৯৩ টন, লবঙ্গ ১ হাজার ২৫৭ টন, এলাচ ১ হাজার ৯৮ টন এবং জায়ফল ৩৪৬ টন। যদিও আগের বছরের তুলনায় আমদানি কমেছে, ব্যবসায়ীদের দাবি-স্থলবন্দর ও সীমান্তপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ মসলা আসায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি নেই।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান: বৈধভাবে আমদানি করা মসলার সঙ্গে চোরাই পথে আসা পণ্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিউটি-ট্যাক্স দিয়ে আমদানি করা জিরার খরচ যেখানে কেজিতে প্রায় ৫৩০ টাকা, সেখানে বাজারে একই জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়।
পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের মতো জমজমাট বেচাকেনা নেই। বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও ক্রেতারা আগের মতো বেশি পরিমাণে কিনছেন না। অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে কিনছেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতার সংখ্যা কম। অনেকেই আগের মতো একসঙ্গে বেশি পরিমাণে মসলা কিনছেন না। কেউ আধা কেজি, কেউবা ১০০-২০০ গ্রাম করে কিনছেন। বিক্রেতাদের ভাষ্য, সংসারের বাড়তি খরচের চাপের কারণে মানুষ প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত কেনাকাটা এড়িয়ে চলছেন। তবে বাজারে মসলার সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
এদিকে মসলায় ভেজাল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে জিরার সঙ্গে ক্যারাওয়ে বীজ মেশানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে এখন অনেক পরিবার গোটা মসলা কিনে বাসায় নিজস্বভাবে গুঁড়ো করার দিকে ঝুঁকছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বাজারে দাম কম থাকলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বেচাকেনা প্রত্যাশিত মাত্রায় হচ্ছে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



